আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের পাহাড়ের তালিকা ও অবস্থান জানতে চাওয়ার পাশাপাশি পাহাড় কাটা বন্ধের আদেশ জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেই আদেশ উপেক্ষা করে স্ক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা শুরু করেছে একটি চক্র।
নগরীর জালালাবাদ মুরগির খামার হয়ে একটু সামনে গেলে দেখা মেলে, সড়কের ডানপাশে পাহাড়ের ওপর ও পাদদেশে গড়ে তোলা হয়েছে রূপসী হাউজিং সোসাইটি।
সেখানে স্ক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে প্রায় ৫০০ ফুট দৈর্ঘের ও ২০ ফুট প্রস্থের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। হাউজিংটি পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় সেখানে এখনো কোনো বসতি গড়ে উঠেনি। তবে, বিভিন্ন সময়ে পাহাড় কেটে সীমানা নির্ধারণ পিলার দিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে ও ওপরে কয়েকটি প্লট তৈরি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পাহাড় কাটার এমন চিত্র। পাহাড়ের পাশাপাশি উজাড় করা হয়েছে গাছপালা ও বনায়ন।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, হাউজিংটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিনের নির্দেশে পাহাড় কাটা হচ্ছে। তবে পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে সালাউদ্দিন বলেন, কোনো পাহাড় কাটছেন না তিনি। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দিকে অভিযোগ তুলে বলেন, পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ করছেন সিটি করপোরেশন। এখানে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়টি তিনি অবগত নয়। এ বিষয়ে সাইটে দায়িত্বরত প্রকৌশলী অলী আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু অলী আহমদেরকে একাধিকবার কল এবং এসএমএস করা হলেও কোন উত্তর দেননি।
স্থানীয় সাংবাদিক আলিউর রহমান বলেন, ‘পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে। গত মঙ্গলবার বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার পাহাড় সুমারির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এরপরও পাহাড় কাটা প্রশাসনিক দৈন্যতা।’
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম (মেট্রো) উপপরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক নিউজকে বলেন, সকালে আমাদের একজন ইনস্পেকটর পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেন। পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় তাদেরকে একটা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার (৬ জানুয়ারি) শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগের সব পাহাড়ের দাগ, খতিয়ানসহ তালিকা এবং পাহাড়গুলোর বর্তমান অবস্থা জানিয়ে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি পাহাড়গুলো ক্ষতি, ধ্বংস ও কাটা থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এ ছাড়া পাহাড় ও টিলা কাটার বিষয়ে হাইকোর্টের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রতিপালন করতে এবং প্রতিটি পাহাড় পরিদর্শন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
-এটি