বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১১ জিলহজ ১৪৪৭


জুমার দিনের বিশেষ তিনটি আমল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবু সাঈদ।।

জুমআর দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ গুরুত্ববহ। এ দিনের ফজিলত সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় অধিক। কুরআন শরীফেও এ দিনের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। কুরআনে বলা হয়েছে, 'হে মুমিনগণ, জুমআর দিন যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, আল্লাহর স্মরণে তোমরা ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝে থাকো। নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ তালাশ কর। আল্লাহ তাআলাকে অধিক স্মরণ কর। যাতে তোমরা সফলকাম হও।' সুরা জুমআ: আয়াত ৯-১০

জুমআর দিন বিশেষ তিনটি আমল রয়েছে। 'সূরা কাহাফ' তেলাওয়াত করা। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরুদ প্রেরণ করা। আসর থেকে মাগরিব বিশেষভাবে ইবাদতে কাটানো।

সুরা কাহফ তেলাওয়াতের আমল: হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমআ থেকে অপর জুমআ পর্যন্ত নূর হবে। মিশকাত ২১৭৫

হজরত আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। - সহিহ মুসলিম : ৮০৯, আবু দাউদ : ৪৩২৩

দরুদ পড়ার আমল: হযরত আউস ইবনে আউস রা. থেকে বর্ণিত, একটি হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই জুমার দিন শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্যতম। ... সুতরাং সেদিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পড়। নিশ্চয় তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। ... (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭; মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৬১৬২;

অন্য হাদিসে এসেছে, হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জুমার রাত ও জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ কর। যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। (আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৩/২৪৯; ফাযাইলুল আওকাত, বায়হাকী ২৭৭; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, ইবনুস সুন্নী ৩৭৯.

আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘প্রত্যেক জুমার দিনে তোমরা আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ কর। কারণ আমার উম্মতের দরুদ প্রতি জুমার দিন আমার কাছে পেশ করা হয়। আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচে বেশি দরুদ পাঠ করে, সে অন্যদের তুলায় আমার বেশি নিকটবর্তী হয়। সুনানে বায়হাকী ৩/২৪৯

আসর থেকে মাগরিব বিশেষভাবে ইবাদতে কাটানো: রাসুল সা. থেকে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন- জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, তখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, আল্লাহ তা'ই দেন। অতএব তোমরা আসরের শেষ সময়ে তা তালাশ করো। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস নং : ১৩৮৯)

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআ’দ-এ বর্ণিত আছে, জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (২/৩৯৪)। ইমাম আহমদ (রহ.) ও একই কথা বলেছেন। (তিরমিজির ২য় খণ্ডের ৩৬০ নং পৃষ্ঠায় কথাটি উল্লেখ আছে)

আল্লাহ তাআলা আমাদের জুমার দিন এই আমল তিনটি করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ