শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ফরিদগঞ্জে রাজকীয় বিদায় ৬ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের   বাংলাদেশ কওমী যুব ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি, আহ্বায়ক সাখী সদস্য সচিব তানজিল কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ দূতাবাসের  সৌদি আরব গেছেন সিরাত অলিম্পিয়াডের ওমরাহ বিজয়ী নাজিফা খান   ‘১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ’ সম্পর্কে যে তথ্য দিলেন পুলিশ বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের অশ্রুসিক্ত বক্তব্যে থমকে গেল সংসদ ডা. জুবাইদা রহমানের হাতে জিয়া স্মৃতি বইমেলার উদ্বোধন শাপলা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান যুক্ত হচ্ছে কওমি মাদরাসার সিলেবাসে সাংবাদিকদের বেতন নিয়মিতকরণের দাবিতে বিএফ‌ইউজে এবং ডিইউজের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ

রানা প্লাজায় আহতদের ৫৭ ভাগের শারীরিক অবস্থার অবনতি, বেড়েছে ট্রমা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহতরা এখনো মানবেতর জীবন-যাপন করছেন৷ তাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়াগুলো এখন আরো স্পষ্ট হচ্ছে৷ তাদের অনেকেরই কাজ করার মত সক্ষমতা নেই৷ কেউ কেউ ভিক্ষা করতেও বাধ্য হচ্ছেন৷

আহতদের মধ্যে এক হাজার ৪০০ শ্রমিক নিয়ে কাজ করছে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ৷ তাদের মধ্যে ২০০ শ্রমিককে গত ৯ বছর ধরে নিবিঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা৷ এবারো ওই ২০০ জনের জনের ওপর জরিপ করেছে তারা৷

জরিপে দেখা গেছে আহত শ্রমিকদের ৫৬.৫ ভাগের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে৷ গত বছর এই সংখ্যাটি ছিলো শতকরা ১৪ ভাগ৷ আহতরা এখনো কোমর, পিঠ, মেরুদণ্ড, মাথা ও হাত-পায়ের নানা সমস্যায় ভুগছেন৷

২০১৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের সাভারে রানা প্লাজা বিধ্বস্ত হলে নিহত হয় অন্তত ১,১০০ পোশাক শ্রমিক৷ এ ঘটনার পর পশ্চিমা যেসব দেশে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়, তারা পোশাক কারখানাগুলো পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়৷ সম্প্রতি বেশ কিছু নামি-দামি ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো পরিদর্শন করেছেন৷

গত এক বছরে মানসিক ট্রমায় আক্রান্ত বেড়ে ৪৮.৫ ভাগ হয়েছে৷ এক বছর আগে ছিলো ১২.৫ ভাগ৷ জরিপে আহতদের অর্থনৈতিক চিত্রও ফুটে উঠেছে৷ তাদের ৫৩ ভাগ এখনো কোনো কাজ পাননি বা কাজ করতে পারছেন না৷ যে ৪৩ ভাগ কাজ পেয়েছেন তারা যে সবাই পোশাক কারখানায় কাজ পেয়েছেন তা নয়৷ অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন৷ যারা কাজ পাননি তাদের ৬৭ ভাগ শারীরিক অক্ষমতার কারণে কাজ করতে পারেন না৷ ১০ শতাংশ মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন৷

জরিপ বলছে, আহতদের মধ্যে যারা কাজ পেয়েছেন তাদের মধ্যে মাত্র ১৪.৫ শতাংশ পোশাক কারখানায় ফিরে যেতে পেরেছেন৷ আরও ৮ শতাংশ টেইলারিং এর সাথে জড়িত আছেন৷ বাকিরা এখন পেশা বদলে গৃহকর্মী, দিনমজুরি, কৃষিকাজ, বিক্রেতা এবং গাড়ি চালানোর মতো পেশায় যুক্ত হয়েছেন৷ কেউ কেউ ভিক্ষাও করছেন৷

করোনা মহামারিতে তাদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে৷ অনেকের আয় আগের চেয়ে কমে গেছে৷ আহতদের ৩৬ শতাংশের পারিবারিক আয় এখন মাসে পাঁচ হাজার টাকার কম এবং ৩৪ শতাংশের ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে৷

অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, ‘‘আহত শ্রমিকদের দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়নি৷ ফলে তাদের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে৷ শ্রমিকরা বলেছেন, আহত হওয়ার পর এখন তাদের শরীরে আরো নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে৷ মানসিক সমস্যা হচ্ছে৷ যেগুলো আগে ছিলো না৷ দীর্ঘ মেয়াদে যে প্রতিক্রিয়া হবে তা তাদের চিকিৎসা পরিকল্পনার মধ্যে তখন রাখা হয়নি৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘অনেকে কাজ পেয়েছে কিন্তু তারা সবাই তো আর পোশাক কারখানায় পায়নি৷ তাদের আয় কমে গেছে৷ খাদ্য সংকটে পড়েছে৷ খাবার ঠিক মতো না পাওয়ায় শারীরিক সমস্যা আরো বেড়ে গেছে৷''

রানা প্লাজা নিয়ে কাজ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ-এর অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন৷

তিনি বলেন, ‘‘রানা প্লাজার ঘটনার পর কাঠামোগত উন্নয়নে জোর দেয়া হয়৷ আইএলওর প্রতিবেদনের পর তাদের আর্থিক সহায়তাও দেয়া হয়, সেটা ভালো৷ কিন্তু আহতদের দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসার কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি৷ ৯ বছরে আহতদের বয়স বেড়েছে, শারীরিক জটিলতাও বেড়েছে৷ তাদের অনেকেরই কাজ নেই৷ কাজ করতে পারেন না৷ তার প্রভাবও পড়ছে৷ তারা তখনই ট্রমাটাইজ ছিলেন৷ পরিস্থিতির কারনে ট্রমা আরো বেড়েছে৷''

তার কথা, ‘‘সরকারের কাছে এখন আর হয়তো কোনো জরিপও নেই যে আহতরা কোথায় কেমন আছে৷ এটার একটা জরিপ করে তাদের দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসার আওতায় নেয়া দরকার৷ তাদের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল৷ এর ব্যয় তাদের নিজেদের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়৷''

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে এক হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন৷ আহত হন দুই হাজার ৫০০ শ্রমিক৷

সূত্র: ডিডব্লিউ

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ