সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎অতিবৃষ্টি হলে যে দোয়া পড়বেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই

পরীক্ষার হলে ছাত্র-ছাত্রীদের অস্বস্তি: বেফাক যিম্মাদারদের কাছে অনুরোধ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাহমুদুল হাসান।।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি>

গত ৯ মার্চ (বুধবার) থেকে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের ৪৫তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা চলছে। চলমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ধরণ, পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মাঝে অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে শিক্ষার্থী মহলে। এ নিয়ে বেফাকের যিম্মাদারদের কাছে সবিনয়ে কিছু অনুরোধ করছি ।

এক. ৪৫তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা চলছে তার মানে এবারের পরীক্ষা একদমই নতুন না। ৪৫ বছরের ধারাবাহিকতা আছে। প্রশ্নপত্রের সেই ধারাবাহিকতার পরিবর্তন কিংবা সংস্কার হঠাৎ করে সম্ভব বলে মনে করি না। প্রশ্নের ধরণ বা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় (মাওযায়ে ইমতেহানে) এতটা আমূল পরিবর্তন কেন আনা হলো- তা আমার বোধগম্য নয়। ফজিলত বা মিশকাত জামাতের হেদায়া রাবের প্রশ্নপত্রের হঠাৎ এই পরিবর্তন ছাত্র-ছাত্রীদের অস্বস্তিতে ফেলেছে।

দুই. করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের বছর চলছে। এখন সেটি অবশ্য নেই। তবুও ভয়, শঙ্কা কিংবা এই মহামারির বছরে শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল মানসিকতা থাকা ছিল মানবীয় ব্যাপার। সেটি না রেখে কেনো উল্টো কাজটি করা হলো।
তিন. ছেলে-মেয়েরা আত তাইসির, মুখতার বা মুইনুল ইমতেহান নামের গাইড পড়ে। গাইডনির্ভর পড়াশোনা নিশ্চয়ই ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্ষতিকর। সেটি বছরের শুরুতে না বলে কিংবা গাইড নিষিদ্ধ না করে হঠাৎ প্রশ্নপত্রে এমন আমূল পরিবর্তন করা কতটা যুক্তিযুক্ত। তা আমার জানা নেই। শিক্ষার্থীদের মানসিক যন্ত্রণা বুঝার কী কোন অভিভাবক নেই?

চার. শিক্ষার্থীদের কিতাবমুখী করা গুরুত্বপূর্ণ। ইবারত হল করা মূল ইস্তেদাত মজবুত করা যথেষ্ট সময়ের দাবি। তাই বলে পরীক্ষার হলে প্রশ্নের যাতনা দিয়ে উচিত শিক্ষা দেয়া কি মুহসিন অভিভাবকের দায়িত্ব?

পাঁচ. যেকোনো পরিবর্তনের পূর্বাভাস থাকা দরকার। বেফাকে বেতনভুক্ত একাধিক পরিদর্শক আছেন। তারা চাঁদা আদায়, রশিদ কালেশকশন কিংবা বিভিন্ন প্রয়োজনে মাদরাসা পরিদর্শন করেন। কখনো বেফাক জামাতের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন, পরামর্শও দেন। এই যে আজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলের করুণ পরিণতি তারা কি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বা ছাত্র-ছাত্রীদের সামান্য ইশারা ইঙ্গিত দিয়েছেন?

আমি বিবেকের তাড়নায় বেফাকের যিম্মাদারদের কাছে কিছু অনুরোধ রাখলাম। কোন মুহসিন অভিভাবক হয়ত বিষয়গুলো ভাববেন। স্থায়ী সমাধান করবেন। পরীক্ষার হলের যাতনা থেকে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের মুক্ত করবেন। ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এএ/ এইচ,এ/এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ