বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ ।। ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
পুকুরে গোসলে নেমে প্রাণ গেল দুই মাদরাসা ছাত্রের দুই হিন্দু অনাথ ভাইকে মানুষ করে বিয়ে দিলেন মুসলিম দম্পতি বিজয় দিবসে ৮ হাজার ২৯৯ বন্দিকে মুক্তি দিলো তালেবান সরকার ইউপি নির্বাচনে ফের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন রফিকুজ্জামান অনু নূরানী তালীমুল কুরআন বোর্ডের মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি চলছে জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা নয়, নির্দেশনা না মানলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত সংসদ মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ‘জাতিসংঘ সভাপতির পদ কোনো এক দেশের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ নেই’ 

নারী শিক্ষাদানে আফগান সাহসিনী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: গত বছরের আগস্টে নতুন করে আফগানিস্তান দখলে নিয়েছে তালেবান। আতঙ্কের ছায়ায় যখন পুরো দেশ ঢাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা ভুলতে চলেছে মানুষ, নারীদের উপর জারি করা হচ্ছে বিভিন্ন বাধা নিষেধ, তখন এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গত ১০ বছর ধরে চলছে একটি স্কুল।

সেখানকার পড়ুয়াদের অধিকাংশই মেয়ে। আল জাজিরার (২০ ফেব্রুয়ারি) করা একটি প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য উঠে আসে।

এই স্কুল চালান ফ্রেশতা নামের বাইশ বছর বয়সী এক তরুণী। মাত্র ১২ বছর বয়সেই ফ্রেশতা এই স্কুল খুলে ফেলেছিলেন তিনি। ফ্রেশতাই এই এলাকার একমাত্র স্নাতক।

কয়েক মাস আগেই বামিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়েছিলেন। আফগানিস্তানের অন্যান্য প্রদেশের মেয়েদের মতোই পাহাড় ঘেরা এই প্রদেশেও মেয়েদের শিক্ষার হার ২৫ শতাংশের মতো।

যেটুকু শিক্ষার আলো পৌঁছেছে, তার কৃতিত্ব বেশীর ভাগই যায় ফ্রেশতার ঝুলিতে। কোন বেতন ছাড়াই ২ ঘণ্টা ধরে প্রায় ৫০টি পরিবারের সন্তানকে পরম যত্নে পড়ান ফ্রেশতা। ৪ থেকে ১৭ নানা বয়সের পড়ুয়ারা আসে পড়তে।

গত আগস্টে সেই দেশের সাধারণ মানুষদের উপরে চলছে তালেবানি শাসন। তালেবানি রক্তচক্ষু এড়িয়ে এই অবস্থাতেও স্কুল চালিয়ে যাচ্ছেন ফ্রেশতা।

ফ্রেশতা জানান, আমার স্কুল ছিল অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ও রঙিন। কিন্তু তালেবান যখন বামিয়ানে ঢুকে পড়ল আমার বন্ধুরা আমাকে সাবধান করে দিয়েছিল।

আমি সব পোস্টার ও আঁকা ছবি যা টাঙানো ছিল সব খুলে ফেলি। আসলে সবাই ভয় পাচ্ছিল। একে তো আমি স্কুল চালাই। তার উপর মেয়েদের পড়াই। আমি সব কলম আর রং একটা ব্যাগে ভরে সামনের নদীতে ফেলে দিই।

সব মিলিয়ে তিনবার ফ্রেশতাকে তালেবানের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আসলে তারা এসেছিলো তাদের এক প্রতিবেশীর খোঁজে, যে স্থানীয় পুলিশে কাজ করত। সেই পলাতক ব্যক্তির খোঁজে বারবার এখানে এলেও তালেবানকে ফ্রেশতা ঘুর্ণাক্ষরেও টের পেতে দেননি এখানে কোনও স্কুল রয়েছে।

স্কুল থেকে কোনও রোজগার নেই ফ্রেশতার। যেটুকু সামান্য অনুদান আসে, তা স্কুলের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে লাগান তিনি। নিজের স্বপ্নের স্কুলকে আগামী দিনেও একই ভাবে চালিয়ে যেতে চান এই আফগান তরুণী।

এই মুহূর্তে খাদ্য সংকটে বিপন্ন আফগানিস্তান। পেটে খিদে নিয়েও ফ্রেশতার পড়ুয়ারা আসে রোজ, পাঠ নেয় জীবনের। আঁধারে ঢাকা আফগানিস্তানে আলো আনার স্বপ্ন এভাবেই বয়ে চলেছেন ফ্রেশতারা। আর প্রমাণ করে দিচ্ছেন, প্রতিকূলতা যতই থাক, শিরদাঁড়া সোজা করে স্বপ্নপূরণের লড়াই চালানো কখনওই অসম্ভব নয়।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ