সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১০ হাজার মৃত্যু বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় ইমাম পরিষদের

মদ্যপান ছেড়ে ইসলামের ছায়াতলে ব্রিটিশ তরুণী রিজভি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: যুক্তরাজ্যের হাডার্সফিল্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠেন পারসেফন রিজভি। পড়াশোনা, ক্যারিয়া গঠন ও জীবনের নানা ঘটনাপ্রবাহে বদলে যায় ২৭ বছর বয়সী এ নারীর বিশ্বাস। সম্প্রতি বিবিসি থ্রি তাঁর বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুরুর আগে একটি কল সেন্টারে সামার জবে যুক্ত ছিলাম। সেখানে হালিমা নামে আমার এক বান্ধবী ছিল। তার সঙ্গে প্রথমে রমজান রোজা রাখা শুরু করি। তখনও আমার মধ্যে ধর্মে যুক্ত হওয়ার মনোভাব তৈরি হয়নি। এটাই ছিল আমার প্রথম ইসলাম পালন। দুরন্ত সাহসী মনোভাবের কারণে আমি শুধু ভাবছিলাম, ‘এটা শুধুমাত্র ৩০ দিন। আমার জন্য তা কোনো কিছুই নয়।’

পারসেফন বলেন, ‘আমি খুবই অল্প বয়সেই ম'দ্যপান শুরু করি। ফলে আমার সঙ্গে কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে পরিবারের সবার সামনে আমার পেটে ফুলে যাওয়া, খুবই দুঃখজনক ছিল। এরপর ইসলামের সন্ধান আমাকে বদলে দিয়েছে। শুরুতে তা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছিল। ম'দপান ও পার্টিতে অংশ নিলেও তা আমার জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। তাই এটিই ছিল অতীতের লোকদের সঙ্গে সাক্ষাতের উত্তম সময় ছিল।’

প্রথমবার রোজা রাখার পরও আমার ম'দপান ও পার্টিতে অংশ গ্রহণের অভ্যাস বন্ধ ছিল না। তবে আমার আচার-ব্যবহারে পরিবর্তন শুরু হয়। আমার মনোভাব অনেকটা এমন ছিল, ‘আমি অমুকের চেয়ে ভালো আছি। আমাকে আরো ভালো হতে হবে।’ ত্যা'গের মাসটি আমার মধ্যে নিঃস্বার্থতা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি বোধ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আমি নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার প্যাকেজ পেয়েছি যা আমার খুবই প্রয়োজন ছিল। মূলত এটাই ছিল আমার ইসলাম গ্রহণের ‘ক'লিং কার্ড’ আমন্ত্রণপত্র।’

‘পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে আমি পুনরায় যোগাযোগ শুরু করি। তাদের কী করছে, তাদের জীবন কেমন কাটছে এসব বিষয় জানার চেষ্টা করি। তারাও আমার সম্পর্কে জানতে খুবই কৌতুহলী ছিল। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল। কিন্তু তখন আমি সামাজিক যোগাযোগ প্লটফর্মে খুবই এক্টিভ।’

ইসলাম গ্রহণের পরের ঘটনা বর্ণনা করে পারসেফন বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের পর প্রথম দিকে খু্বই চা'প বোধ করতাম। তবে ওই সময় নিজের ব্যাপারে খুবই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। আমি অনেকটা নতুন বস্তুর সন্ধান পাওয়া ব্যক্তির মতো ছিলাম যে নিজেকে গভীরে সপে দিয়েছে। আমি বুঝতে পারি যে আমাকে অনেক বিষয়ে সংযম করতে হবে এবং ধর্মীয় সীমারেখার মধ্যে থাকতে হবে। ধারাবাহিক সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা সম্ভব হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে আমি গুরুত্বসহ ইসলাম নিয়ে গবেষণা শুরু করি। মুসলিম হওয়ার কথাও ভাবছিলাম। সালফোর্ডের ইউনিভার্সিটি ও হাডার্সফিল্ডে আমার বাবা-মায়ের বাড়ির মধ্যেই আমার যাতায়াত ছিল। কিন্তু ইসলামের প্রতি আমার আগ্রহের কথা তারা জানত না। হঠাৎ একদিন আমি মাথায় স্কার্ফ দিয়ে ঘরে ঢুকে বললাম, ‘আমি এখন মুসলিম!’

আমার কথা শুনে বাবা-মা বেশ অবাক হলেও তারা অসন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা আমাকে অনেক প্রশ্ন করে নিশ্চিত হতে চাইছিলেন যে আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বাবা আমাকে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখতে পান। প্রথম দিকে আমি পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা সঠিকভাবে না বুঝেই অনেক কিছু করতে চেয়েছি। অনেক সময় কঠোর ও দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সবকিছু করতে চেয়েছি। সূত্র : বিবিসি

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ