বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
গাজীপুরে রেল ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার ‘শরিয়তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের প্রতিজ্ঞায় উদ্ভাসিত হোক পবিত্র ঈদুল আজহা’  ‘সিরাজগঞ্জ শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে টার্মিনাল স্থানান্তর করার উদ্যোগ’  আল আকসায় ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল সরকারের ১০০ দিনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ই-বুক প্রকাশ মেঘনা-গোমতী সেতু: ৪৮ ঘণ্টায় ২ কোটি ৬২ লাখ টোল আদায়  ‘ঈদযাত্রা সন্তোষজনক, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন’  পাকিস্তানে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প: নিহত ১, আহত ১১ এবার হাজির সংখ্যা বেড়েছে ২.৪ শতাংশ ঈদের দিনে পরীক্ষা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

‘হিজরি সন’ মুসলমানদের স্বকীয়তার স্মারক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন
লেখক ও মাদরাসা শিক্ষক

ওলামায়ে কেরামের ফতোয়া মতে, ইসলামী ক্যালেন্ডার এর ব্যবহার চালু রাখা এবং এর ব্যপকতার জন্য প্রচেষ্টা চালানো উম্মতের উপর সম্মিলিত ফরজ। ফরজে কেফায়াহ। হিজরী তথা ইসলামী ক্যালেন্ডার আমাদের স্বকীয়তার স্মারক। এটা আমাদেরকে হিজরতের সেই ঐতিহাসিক ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। হযরত ওমর রাযি. তখন মুসলিম জাহানের খলিফা। তাঁর নিকট একটি রাষ্ট্রীয় চিঠি এল; যাতে তারিখ উল্লেখ আছে কিন্তু সাল উল্লেখ নেই। চিন্তা করলেন, মুসলমানদের একটি নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ক্যালেন্ডার হওয়া উচিত। পরামর্শ সভা আহবান করলেন। হযরত আলী রাযি. এর মতের প্রেক্ষিতে ‘ঐতিহাসিক হিজরতের ঘটনার সাক্ষীস্বরূপ’ হিজরত থেকে ক্যালেন্ডারের হিসাব শুরু হল। আরব সমাজে পূর্ব থেকে প্রচলিত ১ম মাস মুহাররম ও ১২তম মাস জিলহজ্ব এর গণনা চলমান থাকে। ক’দিন পরেই ১৪৪৩ হিজরী’ শুরু হচ্ছে। এর অর্থ হলো, আজ থেকে ১৪৪৩ পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করেছেন।

ক্যালেন্ডার জাতির স্বকীয়তা ও পরিচয়ের অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সুরক্ষিত থাকে। একটু ভেবে দেখুন ইসলামী ক্যালেন্ডার সম্পর্কে। এর প্রতিটি মাসের মধ্যে ইবাদতের ইঙ্গিত রয়েছে। মাসের নাম শোনামাত্রই ‘সে মাসের ইবাদতের দিকে মন চলে যায়। অন্যান্য ক্যালেন্ডারেও কিন্তু একই রহস্য লুকায়িত। তাতেও তাদের জাতি ও গোষ্ঠীর, চিন্তা-চেতনার ইঙ্গিত রয়েছে। মাস ও সপ্তাহের সাতদিনের নামের মধ্যেও লুকায়িত আছে এই সূক্ষ্ম রহস্য। লক্ষ্য করুন, Sunday এর দিকে। এর অর্থ সূর্যের দিন। তেমনি Monday এর দিকে, এর অর্থ চন্দ্রের দিন। তারা একদিন সূর্যে্যর ও একদিন চন্দ্রের পূজা করতো। ইবাদত করতো। এমনিভাবে বিভিন্ন মূর্তি ও দেব-দেবীর নামে মাস ও দিনের নামকরণ করা হয়েছে।

ইসলামী ক্যালেন্ডারকে ‘হিজরী ক্যালেন্ডার’ বলে। রাসূলের হিজরতের দিকে সম্মন্ধ করে ‘হিজরী’ সাল গণনা শুরু হয়েছে। আরবী ভাষয়ায় ‘হিজরুন’ অর্থ ত্যাগ করা। হিজরুন মূলধাতু থেকে হিজরত শব্দটি নির্গত। হিজরত একটি ইসলামী পরিভাষা। ঈমানের হেফাজত এবং দ্বীনের প্রচার-প্রসারের মহান লক্ষ্যে দেশত্যাগ করাকে হিজরত বলে। বর্তমানে ‘দেশত্যাগ’ করা একটি আন্তর্জাতিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিটি দেশেই কিছু লোক পাওয়া যায়, যারা নিজ ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকুরী ইত্যাদির কারণে নিজ দেশত্যাগ করে অন্য কোথাও গিয়ে বসবাস করছেন। উন্নত রাষ্ট্রে এমন মানুষের সংখ্যা তূলনামূলকভাবে বেশী। তাদেরকে
‘মুহাজির’ বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে মুহাজির বলা হিজরত শব্দটিকে অপমান করার নামান্তর।

হিজরত করা মূলত নবীদের সুন্নত। প্রায় সব নবীগণই হিজরত করেছেন। কুরআনুল কারীমে হযরত ইবরাহীম আ. হযরত মুসা আ. ও হযরত নূহ আ. এর হিজরতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। যদিও সকলে হিজরত করেছেন তথাপি এ শব্দটি রাসূলুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। ৫৭১ খৃষ্টাব্দে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে আগমন করেন। ৪০ বছর বয়সে নবুওয়ত লাভে ধন্য হন। রাসূলের সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা এবং চরিত্র-মাধূয্যের্র খ্যাতি পুরো আরবজুড়ে বিস্তৃত ছিল। বাল্যকাল, শৈশব ও যৌবনকাল তিনি মক্কাতেই কাটিয়েছেন। নবুওয়ত প্রাপ্তির পর শত্রুরা রাসূলকে সবধরণের কষ্ট দিতে লাগল।

১৩ বছর মক্কায় দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন। রাত-দিন মেহনত করেছেন। প্রচুর ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেছেন। তাঁর ফিকির ছিল একটাই-আল্লাহকে ভুলা যাওয়া বান্দারা কিভাবে আল্লাহকে চিনতে পারে। আল্লাহর সাথে মুহব্বত ও ভালবাসার সম্পর্ক জুড়তে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা সর্বদা বিভিন্ন অলি-গলিতে, হাট-বাজারে, পাড়ায়-মহল্লায়, গঞ্জে-গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি দ্বীনের দাওয়াত
দিতেন। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের দিলের দরজায় কড়া নাড়তেন। কাউকে পেলেই দ্বীনের পথে আসার জন্য তোষামোদ করতেন। কিন্তু গুটি কয়েকজন ব্যতিত কেউ তার কথা শুনল না। অধিকাংশ মানুষের অবস্থা এমন ছিল যে, তারা হক ও সত্যকে দিবালোকের ন্যায় বুঝতো কিন্তু মূর্তি পূজা ও ধর্মহীনতাকে ছাড়তে পারতো না। কেননা এটাই ছিল তাদের পূর্বপুরুষ ও
বংশধরদের প্রাচীন ধারা।

সেকালে এমন কোন কষ্ট অবশিষ্ট ছিল না, যা তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেয়নি। রাসূলের পুরো পরিবারকে বয়কট করা হয়েছিল। প্রচণ্ড ক্ষুধা ও তৃঞ্চার জ্বালায় নিরুপায় হয়ে রাসূল সপরিবারে গাছের পাতা পর্যন্ত ভক্ষণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর পবিত্র শরীরে উটের নাড়ি-ভূড়ি ও ময়লা ইত্যাদি নিক্ষেপ করা হয়েছে। গলায় রশি বেঁধে হত্যার পরিকল্পনা
করা হয়েছে। চলার পথে কাঁটা বিছানো হয়েছে। উপহাস ও অবজ্ঞা করে তাকে দেখে হাত তালি দিত ওই পাপিষ্ঠরা। পাগল ও যাদুকর বলে তাঁকে অপমান করতে চেষ্টা করা হয়েছে।

নবুওয়তের বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়েফ সফর করলেন। উদ্দেশ্য ছিল, তাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিবেন। তারা ইসলামকে কবুল করবে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তায়েফের জমীন মক্কা থেকেও বেশী অনুপযোগী দেখা গেল। তারা শুধু রাসূলের দাওয়াতকে অস্বীকারই করেনি বরং রাসূলের বিরুদ্ধে বখাটে ছেলেদেরকে লেলিয়ে দিয়েছে। তারা
রাসূলের উপর পাথর নিক্ষেপ করেছে। অত্যাচার ও নির্যাতন করে রাসূলের শরীরকে রক্তে রঞ্জিত করেছে। উপহাস ও অবজ্ঞা করেছে। জুতা মুবারকে রক্ত জমাট বেঁধেছে। হাটু আহত হয়েছে। ব্যথা ও নির্যাতন সইতে না পেরে রাসূল বসে পড়লে ওরা জোরপূর্বক তাকে দাড় করিয়ে দিতো।

হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা রাযি. সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি রাসূলকে কাঁধে উঠিয়ে একটি বাগানের মধ্যে আশ্রয় নিলেন। ভগ্ন হৃদয় এবং অশ্রম্নসজল নয়নে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার দিকে মনোনিবেশ করলেন। একটু শান্ত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! দূর্বল-অসহায় ও নিঃস্ব তোমার বান্দা
ফরিয়াদ করছি। তুমি অসহায়ের সহায়। তুমি পরম দয়ালু। তুমি আমার মালিক। তুমি আমাকে কার নিকট পাঠালে? তুমি কি আমাকে দুষ্টু লোকদের নিকট পাঠিয়েছ? অসন্তুষ্ট হয়েছ কি আমার উপর? আমি তোমার সীমাহীন রহমতের প্রত্যাশী। তোমার সৌন্দর্যে্যর নূরে আমি তোমার কাছে সাহায্যপ্রার্থী।

আমাকে এমন জায়গার ব্যবস্থা করে দাও, যেখানে দ্বীন জিন্দা হবে। অন্ধকার আলোতে পরিণত হবে। তুমি ছাড়া আমার যে আর কেউ নেই। তোমার শক্তিই মহান। তুমি আমার জন্য উত্তম ব্যবস্থা কর। কুদরতের কী অদ্ভূদ কারিশমা! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমান ও ইসলামের যে বীজ বপন করেছেন মক্কা ও তায়েফে। তা চারা গজিয়েছে মদীনায় ঊর্বর ভূমিতে। কোথায় বৃষ্টি আর কোথায় তার পানি! হজ্বের সময় তারা মদীনা থেকে মক্কায় আসল। দ্বীনের দাওয়াতের প্রতি তাদের কান আকর্ষিত হল। তারা ছিলেন হক্ব ও সত্য সন্ধানী। তাদের মনে কোন কুটিলতা ছিল না। এজন্য হক তাৎক্ষনিকভাবে তাদের দিলের মধ্যে রেখাপাত করল। সাথে সাথে তারা ঈমান আনলেন এবং ঈমানদারদেরকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেয়ারও অঙ্গীকার করলেন।

ওদিকে ঈমানদারদের জন্য মক্কার জমীন দিন দিন সংকীর্ণ হতে লাগল। মুসলমানদের উপর নির্যাতন চরম আকার ধারণ করল। বিভিন্নজনকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়া অব্যহতভাবে চলতে লাগল। কাউকে গলায় রশি লাগিয়ে উত্তপ্ত বালুর উপর টেনে হেচড়ে দেয়া হত। কাউকে আগুনের অঙ্গারের উপর শুইয়ে দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হত। তাদের রক্তের শীতলতা আগুন নেভাত। কাউকে প্রচণ্ড ধেঁায়ায় আচ্ছন্ন করা হত। কাউকে হত্যা করা হয়েছে নৃশংসভাবে।

কিন্তু উপায় কী? মুসলমানগণ রাসূলের নির্দেশে প্রচণ্ড ধৈর্য্য নিয়ে দ্বীনী কাজ অব্যাহত রাখলেন। আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোন সিদ্ধান্তই যে তারা নিতে পারছেন না। চেয়ে আছেন মহামহিম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দিকে। একপর্যায়ে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্দেশ আসলো, মুসলমান মক্কা ছেড়ে দাও। মদীনায় চলে যাও। নির্দেশ পেয়ে মুসলমানগণ ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে মদীনায় আসতে লাগলেন। মক্কায় শুধু তারাই আছেন, যাদের যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও মক্কায়। অপেক্ষায় আছেন আল্লাহর নির্দেশের। ইসলামের শত্রুরা পরিকল্পনা এঁকেছে রাসূলকে হত্যা করার। অবরোধ করে ফেলেছে রাসূলের বাসগৃহ। অবরোধে শরীক হয়েছে প্রতিটি গোত্রের একজন করে প্রতিনিধি। ওইদিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে কৌশল চলে এলো। বিশ্বনবী পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে একমুষ্ঠি ধুলোয় অলৌকিক শক্তিধর গ্রন্থ কুরআনের কয়েকটি আয়াত পড়ে ফঁুক দিলেন। নিক্ষেপ করলেন অবরোধকারীদের দিকে। তারা হারিয়ে ফেললো দৃষ্টিশক্তি। রাসূল বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। কাফেররা পুরস্কার ঘোষণা করল তাঁর মাথার বিনিময়ে। শুরু হল খোঁজাখুঁজি। কোথায় গেল মুহাম্মদ? সর্বোচ্চ চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেও ওরা খঁুজে পেল না ‘মুহাম্মদ’কে। প্রিয় সফরসঙ্গী আবু বকরকে সাথে নিয়ে কয়েকদিনের চুপিচুপি ও গোপন সফর শেষে উপণীত হলেন মদীনায়। তাদের কোন কৌশল আর ষড়যন্ত্রই কাজে আসেনি। আল্লাহর তদবীরের সামনে সবই তুচ্ছ-নগন্য, অতিসাধারণ প্রমাণিত হল।

নবুওয়তের সে সূর্য্য মক্কায় উদিত হয়েছিল, তা আজ মদীনাকে দিবালোকের ন্যায় রৌশনী ছাড়াচ্ছে। রাসূলের মদীনায় আগমন এক বড় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে। শিশু, যুবক, বৃদ্ধ, পুরুষ-মহিলা, মুনীব-দাস, বড়-ছোট সকলে প্রচুর আগ্রহ নিয়ে দাড়িয়ে আছেন তাঁর আগমনের। মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে আহলান সাহলান। স্বাগতম। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন সবাই।
মক্কায় যারা কষ্টের জীবন অতিবাহিত করেছেন। ত্যাগ-তীতিক্ষা স্বীকার করেছেন, তাদের জন্য প্রশস্ত ময়দান খুলেছে। মদীনার আনসার সাহাবীরা মুহাজিরদের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদেরকে ঘর-বাড়ী দিয়েছেন। বাগ-বাগিচা ও বাগান দান করেছেন। সপে দিয়েছেন নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীকেও। মদীনাবাসীর ত্যাগের কোন উদাহরণ এই পৃথিবীতে পাওয়া অসম্ভব। তেমনি অসম্ভব মুহাজিরদের মত কুরবানী ও ত্যাগ স্বীকারকারী পাওয়াও। দ্বীনের জন্য তারা নিজের ঘর-বাড়ী ছেড়েছেন। দেশ ছেড়েছেন। ছেড়েছেন আপন ও প্রিয় আত্মীয়-স্বজন। নিজের পরিচিত ও আপন পরিবেশ ছেড়ে অচেনা পথে তারা চলে এসেছেন। অনিশ্চিত ও অজানা ভবিষ্যতের পথে পা বাড়িয়েছেন।

উভয় পক্ষের এ সীমাহীন, অতূলনীয় ও অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপনের কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে আগতদেরকে ‘মুহাজির’ এবং মদীনার সাহায্যকারীদেরকে ‘আনসার’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। মুহাজির অর্থ দ্বীনের জন্য মাতৃভূমি ত্যাগকারী আর আনসার অর্থ হল, ঈমানদারদেরকে সাহায্য-সহযোগিতাকারী। মুসলিম সমাজের এ দুই স্তর ব্যতিত ৩য় কোন স্তর নেই। জাতি ও সত্ত্বাগতভাবে নেই। নেই রাষ্ট্র ও নেতৃত্বের দিক দিয়েও। হিজরতের এই ঘটনা একদিকে মুসলমানদের ত্যাগ-কুরবানী এবং দ্বীনের হেফাজত ও প্রচার-প্রসারের জন্য রাসূল সা. এবং তাঁর সাহাবীদের তুলনাহীন ত্যাগের স্মারক। আর অন্যদিকে ভবিষ্যতে ইসলামের বিজয়ের জন্য এটি একটি মুকাদ্দমা বা ভূমিকা স্বরূপ।

এটা শুধু মক্কা থেকে মদীনায় সফর ছিল না বরং এটা ছিল পরাজিত থেকে বিজয়ের, দূর্বলতা ও শোষিত থেকে শক্তি ও শাসকরূপে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সফর। বাহ্যদৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য সংকীর্ণতা চেপে আসছিল কিন্তু মূলত এই সংকীর্ণতার মধ্যে আল্লাহ তায়ালা প্রশস্ততা ও সফলতাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এই ঘটনা নিরাশ ব্যক্তির আশা সঞ্চারকারী। এই ঘটনা ঘোষণা করছে। হে দুনিয়াবাসী দেখো, কত ত্যাগ-তিতীক্ষা ও কুরবানীর বদৌলতে আল্লাহ এই দ্বীনের নিশান সমুন্নত করেছেন। কী পরিমাণ রক্তের বিনিময়ে সত্য ও সত্যের এই বটবৃক্ষ অংকুরিত হয়েছে। হযরত ওমর রাযি. ইসলাম বিবর্জিত ক্যালেন্ডর সমর্থন করেননি। তিনি ওই ক্যালেন্ডার বর্জন করেছেন। আমাদের উচিৎ, ইসলামী ক্যালেন্ডার সম্পর্কে নিজে অবহিত হওয়া এবং এর ব্যপক প্রসার ঘটানো। আগামী প্রজন্মের নিকট এর গুরুত্ব ও ইতিহাস তুলে ধরে এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।

লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া, আশরাফাবাদ, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ