রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৬ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
দক্ষিণ সুদান ও আবেই সফরে গেলেন সেনাপ্রধান জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণে কর্পোরেট দখলের আশঙ্কা ‘হলগুলোতে ছাত্রদের মারামারি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ সুগম করছে’  আওয়ামী নৃশংসতার বৈশ্বিক প্রচারণা জোড়দারের আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের একজন শিক্ষকই বদলে দিতে পারেন একটি প্রজন্ম : এমপি এনামুল কওমি শিক্ষার্থীরা দেশের অনেক বড় সম্পদ: ড. আহমদ আবদুল কাদের হাসিনার আমলে একটি অমানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর বোয়ালমারীতে ট্রেনের ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার মৃত্যু রাত ১টার মধ্যে দেশের ৬ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট বিভাগে ৩১ জনের মৃত্যু

স্মৃতির পাতায় আল্লামা কাসেমী রহ. ও কাফেলা সাময়িকী প্রকাশের গল্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা আবু বকর
সাবেক শিক্ষার্থী, বারিধারা মাদরাসা

এক.
দিনটি শুক্রবার।বাজি চল, যেতে হবে। তড়িঘড়ি রেডি হলাম। প্রথমে গেলেন রামপুরা ওয়াপদা রোড মসজিদে। জুমার নামাজ পড়ালেন। এরপর যাত্রা শুরু। দয়াগঞ্জ মসজিদে যাত্রাবিরতি। হুজুর একসময় এখানে জুমা পড়াতেন। কাছাকাছি মাহফিলে বয়ান করলেন বাদ মাগরিব। হাদিয়া পেলেন একহাজার টাকা। বারিধারায় ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেল। বোর্ডিং এ চুলা জ্বলেনি। ক্ষুধার্ত ছাত্রদের এদিক সেদিক হাটাহাটি। বোর্ডিং ম্যানেজার সামনে এসে দাঁড়ালেন। হুজুর হাদিয়া পাওয়া একহাজার টাকা পকেট থেকে বের করে দিয়ে দিলেন। নির্বাক তাকিয়ে রইলাম।
দুই.
একচালা নড়বড়ে ছাপড়া মসজিদ। এখানেই তিনি ঘুমান। রাতে প্রচন্ড ঝড় হল। পাশের ছোট ছাত্রাবাসের চাল উড়ে গেল। বিছানাপত্র সবকিছু বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। পুরো মসজিদ ভিজে গেছে। হুজুর ভেজা শরীর নিয়ে ছুটাছুটি করছেন। ফরিদাবাদ - মালিবাগের নিরাপদ কর্মস্থল ছেড়ে কেন এই কষ্টের জীবন বেছে নেয়া? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইলাম। কিন্তু আমার সেই অন্তর্দৃষ্টি কোথায়?
তিন.
বারিধারা মাদ্রাসার প্রথম বছর। থাকা-খাওয়া-আসাতিজায়ে কেরামের সামান্য অজিফা সবকিছুই তখন অনিশ্চিত। বছর শেষে সিদ্ধান্ত হল স্মরনিকা বের করতে হবে। যার নাম হবে ‘কাফেলা’। অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ। খতমে বোখারীর দিন ঠিকই ‘কাফেলা’ ছাপার অক্ষরে বের হয়ে এল। অভূতপূর্ব অনুভূতি সবার মনে। বিভিন্ন মাদরাসা থেকে আগত উলামায়ে কেরাম স্মরনিকা হাতে নিয়ে বিস্ফারিত নেত্রে একবার এটি দেখছেন, আরেকবার জরাজীর্ণ মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে চোখ বুলাচ্ছেন। আমার পরিচিত কয়েকজন বললেন, বারিধারা পেরেছে, এটা বারিধারার পক্ষেই সম্ভব। আমি ভাবলাম, বারিধারা কি কোন রক্ত-মাংসের অবয়ব? বারিধারার অপর নাম যে কাসেমী!
চার.
বাজি, আমি একটি মাসিক পত্রিকা বের করতে চাই। হাজি আফসার সাহেবের প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপা হবে। প্রিন্টিং ও কাগজের খরচ তিনিই বহন করবেন। বাজি, আমি একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি করতে চাই এখানে। সব ধরনের কিতাব এখানে থাকবে, গবেষণা হবে ফিরাকে বাতেলা নিয়ে। আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। ভারত-পাকিস্তান থেকে মূল কিতাব আমি সংগ্রহের ব্যবস্থা করব। তোমাকে কিছু দায়িত্ব নিতে হবে। আমি ভাবি, এত প্রাণ শক্তি তিনি কোথায় পান। তিনিতো প্রথাগত লেখক বা গবেষক নন। কেউ কেউ বলেন, তিনি লেখক নন তবে অসংখ্য লেখকের জন্মদাতা। হঠাৎ আমার মনে পড়ে দেয়াশলাই কাঠির মাথায় বারুদের কথা। আগুন যেখানে অদৃশ্য কিন্তু সেখানে অন্তহীন আগুনের বসবাস।
পাঁচ.
ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ। না বলে পারছিনা। মাঝখানে একটি বছর চাঁদপুর জাফরাবাদ মাদরাসায় ভর্তি হই। হুজুরকে বিস্তারিত কিছুই জানাইনি। একদিন বারিধারার একজন ছাত্র আমাদের বাড়ি গিয়ে হাজির। তখনতো মোবাইল ছিলনা। আমার খোঁজ খবর নিতে তাকে ঢাকা থেকে পাঠিয়েছেন। এও কি সম্ভব?
ছয়.
দাওরায়ে হাদীস, শেষ বর্ষ। বিদায়ের ক্ষন ঘনীভূত। সবাইকে ডেকে বসালেন। বললেন, বাজি, তোমাদেরকে হাদীস পড়ানোর সনদ দিলাম। তোমাদের জন্য আজীবন বারিধারা মাদরাসার দুয়ার খোলা। তোমরা আজীবন এখানের মেহমান। যতদিন তোমাদের কোথাও খিদমতের ব্যবস্থা না হবে ততদিন এখানে থাকবে। এমন উদাহরণ আমার অজানা। আজ তিনি আল্লাহ পাকের মেহমান। হে রব্বুল আলামীন, আমার শায়েখকে আপনি আপনার খাস মেহমানের মর্যাদা দিন। আমীন।

লেখক: বর্তমান এফএভিপি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিঃ

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ