বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ।। ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘একজন প্রবীণ আলেমের ওপর নৃশংস হামলার বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব’ কাউন্সিল সফল করতে মিরপুরে জমিয়তের মতবিনিময় সভা ইমাম কেন বেছে নিলেন আত্মহত্যার পথ? শায়খে চরমোনাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি ১ হাজার ওমরা যাত্রীর খরচ বহন করবেন সৌদি বাদশাহ এসএসসি-২০২৭ জানুয়ারিতে, ২০২৮ থেকে আসছে নতুন কারিকুলাম ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ, ইসরায়েলের ভয়ংকর পরিকল্পনা ফাঁস ক্বারী আবু রায়হানের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় খেলাফত মজলিস তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেমি নিচে, প্লাবনের শঙ্কা নেই বিকেএম ময়মনসিংহ জেলা শাখার নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত

‘শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় প্রকৃত নেতৃত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তফা ওসমান তুরান বলেছেন, জীবনযাপনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশসহ সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে সত্যিকারের নেতৃত্ব দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গারা কোথায় বাস করছে সেটি বিবেচনা না করে, তাদের পেছনে ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতার ওপর জোর দেন দু’বার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করা রাষ্ট্রদূত তুরান।

তিনি বলেন, `আমরা আরো বেশি সহযোগিতা দেখতে চাই এবং এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করা আরও সহজ হবে।’

ভাসান চরকে আবাসযোগ্য করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেখানে বড় বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে নিজ কার্যালয়ে ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে রাষ্ট্রদূত তুরান বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কোথায় আশ্রয় দেয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশের সরকারের অধিকার।’

তিনি বলেন, দক্ষতার সাথে দুটি পৃথক স্থানে কার্যক্রম পরিচালনা করতে অতিরিক্ত ব্যয় ও চ্যালেঞ্জগুলো খুঁজে বের করতে ভাসান চরে জাতিসংঘ কর্তৃক একটি পূর্ণ প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকার এই দ্বীপটির (ভাসান চর) উন্নয়নে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। সরকার বলছে, ১৩ হাজার একর আয়তনের এই দ্বীপে সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, বছরব্যাপী মিঠা পানি, সুন্দর হ্রদ এবং যথাযথ ও উন্নত অবকাঠামো রয়েছে।

তুর্কি রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর স্বেচ্ছায় করা উচিত এবং গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই দিকটি তুলে ধরা হয়।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মুখে এবং ভূমিধসসহ অন্যান্য দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পর্যায়ক্রমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসান চরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

তারই ধারাবাহিকতায়, গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে ১৬০০ এর বেশি রোহিঙ্গাকে তাদের স্বেচ্ছায় ভাসান চরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

তুর্কি রাষ্ট্রদূত জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) একটি মামলার ক্ষেত্রে গাম্বিয়াকে তারা সমর্থন করছে।

প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার সবচেয়ে ভালো সমাধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনী প্রক্রিয়া।’

এর আগে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর ঘটনায় ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের করা মামলার সপক্ষে ৫শ’ পৃষ্ঠার স্মারক জমা দেয় গাম্বিয়া। একইসাথে অভিযোগের পক্ষে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার পৃষ্ঠার বেশি সম্পূরক নথিপত্র যুক্ত করে দেশটি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার জন্য মিয়ানমার সরকার কীভাবে দায়ী, তা এসব স্মারক ও নথিপত্রে তুলে ধরা হয়।

আইনজীবীদের অর্থ প্রদানের জন্য গাম্বিয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন, যেখানে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে এখন পর্যন্ত ওআইসির তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে ১২ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই তহবিলে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ। তুরস্ক, সৌদি আরব, নাইজেরিয়া এবং মালয়েশিয়াও এ তহবিলে অবদান রেখেছে।

রাষ্ট্রদূত তুরান বলেন, যদিও মিয়ানমার সরকারে প্রথম মেয়াদে অং সান সু চির কাছ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিল, তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি ইতিবাচক কোনো ভূমিকা পালন করেননি।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা এবং নেপিদোর মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তি কার্যকর করা প্রয়োজন।

একটি দেশের পক্ষে বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে রাখা কতটা কঠিন, অভিজ্ঞতার আলোকে তুরস্ক তা জানে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত তুরান বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত নেতৃত্বের প্রয়োজন হয় এবং উভয় সরকারই (বাংলাদেশ ও তুরস্ক) শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় সত্যিকারের নেতৃত্ব দেখিয়েছে।’

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কে প্রায় ৩২ লাখ সিরিয়ান শরণার্থী রয়েছে। প্রত্যাবাসন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তুর্কি রাষ্ট্রদূত বলেন, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্থায়ী এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার এখনও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেনি।

‘বর্তমান পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত নয়। তারা (রোহিঙ্গা) ঝুঁকি নিয়ে মিয়ানমারে ফিরতে পারবে না,’ বলেন তিনি।

এর আগে, মিয়ানমার সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থার অভাবের কারণে ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালের আগস্টে দুই দফায় প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারকে তার দেশের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ২০১৭ সাল থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য যেসব দেশ এগিয়ে এসেছিল তুরস্ক তার মধ্যে অন্যতম।

তুরস্কের বেশ কয়েকটি সংস্থা এবং এনজিও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নের জন্য শরণার্থী সংকটের আগে থেকেই বাংলাদেশে কাজ করে আসছে। কক্সবাজারের স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য সহায়তাও প্রদান করে আসছে তুরস্ক। রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি কক্সবাজারে দু'দিনের সফর করেন এবং তুরস্ক সরকারের বিভিন্ন মানবিক সংস্থাগুর চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় তিনি নতুন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শাহ রেজওয়ান হায়াত ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

তুর্কি রাষ্ট্রদূত দেশটির বিপর্যয় ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বিষয়ক কর্তৃপক্ষ (এএফএডি) এবং তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন, যা প্রতিদিন রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় উভয় সম্প্রদায়ের এক হাজারের বেশি রোগীকে চিকিত্সা সেবা প্রদান করে আসছে।

কক্সবাজার সফরকালে, একটি খেলার মাঠে রোহিঙ্গা শিশুদের সাথে সাক্ষাৎ এবং একটি বহুমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন তুর্কি রাষ্ট্রদূত মুস্তফা ওসমান তুরান, যার সবগুলোই বাস্তবায়িত করেছে তুরস্কের একটি সংস্থা। সূত্র: ইউএনবি

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ