সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

ব্রিটেনে ইসলাম প্রচারে নারীদের অবদান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সাঈয়েদা হাবিবা।।

ব্রিটেনের লিভারপুল ও ওকিংয়ে প্রথম দুইটি সমজিদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৯ সালে। যেখানে নারীরাই সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন। কিন্তু এটা আমরা মনেও রাখতে চাইনা। এমনকি ইতিহাসও নারীদের এই অবদানকে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরকাইভ থেকে নেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত আকারে অগ্রগামী এই নারীদের জীবনী, মসজিদ নির্মাণে তাদের নেতৃত্ব আর সমাজের প্রতি তাদের অবদান তুলে ধরছি।

এই নারীরা সাধারণত মধ্যবৃত্ত ধর্মান্তরিত ব্যাক্তি যারা ইসলামকে জেনেছেন ভ্রমণ, মসজিদ ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকাশা ও বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তৃতার মাধ্যমে।

তারা যে পরিবেশে বড় হয়েছেন সেখানে ইসলামকে অবিশ্বাস্য আর হস্যকর বিষয় হিসেবে দেখেছেন। সেই সময়ে ব্রিটিশ সমাজে মুসলিমদের ধরা হত।

এই মহীয়সীদের একজন জেসি আমেনা ডেভিডসন। ১৯২৬ সালের জুন মাসে ইসলামিক রিভিউতে তিনি ধর্মান্তরি হওয়ার বিষয়ে লিখেন। রিভারপুল ও ওকিংয়ের দুইটি মসজিদেই ঈদ উদ্যাপন, বিতর্ক ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিলো। ১৮৯৭ সালের জানুয়ারিতে লিভারপুলের মসজিদটিতে প্রতিষ্ঠিত হয় শহরের অসহায় শিশুদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র।

মসজিদের প্রকাশনায় নারীরা তাদের অর্জন সম্পর্কে লিখতো। লিভারপুর মসজিদে ১৮৯৫ সালের জানুয়ারির সংখ্যায় প্রকাশিত হয় মিসেস জুবায়দা আলী পুরস্কিত হয়েছেন রানীর কাছ থেকে। একই সালের মার্চের সংখ্যায় প্রকাশিত হয় হায়দ্রাবাদের তরুণী তাইয়্যেবা বিলগ্রামির মাদ্রাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পরীক্ষায় পাশ করার খবর।

লিভারপুর মুসলিমদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত বার্ষিক বড় দিনের সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে মসজিদের সকল অনুষ্ঠানের খাবার ও বিনোদনের দায়িত্ব ছিলো নারীদের। শুরুতে সাহিত্য ও বির্তকের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারতো না নারীরা। শুধু পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিলো।

১৮৯৬ সালের মার্চে প্রথম বারের মত একজন নারী রোসা ওয়ারেন কবি ওয়ার্ডসওর্থের উপর বক্তব্য রাখেন।
অনুষন্ধানে বেরিয়ে আসে নারীদের অবদানের নানারকম তথ্য। মিসেস নাফিসা। তিনি একজন মর্ধান্তরিত মুসলিম। শুধু আমেরিকা থেকে রিভারপুল এসেছেন। তিনি প্রথা ভেঙ্গে নারী অধিকার ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন। নবমুসলিমদের ধর্ম-শিক্ষা দেয়ার প্রতিষ্ঠান মাদরাসা-ই আইয়ুম আল সিবা এর সহকারি দায়িত্ব পালন করেন।

সাদিকা হারুন। একজন সাংবাদিক ছিলেন। তিনি রিভারপুল মসজিদের সময়িকীতে লিখতেন। তিনি ব্রিটেনের একজন ধনী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনিও একজ ধর্মান্তরিত মুসলিম। ইউরোপীয় মুসলিমদের মধ্যে প্রথম মটরগাড়িতে হজ্জ পালনকারী তিনি।

লিভারপুল মুসলিম শিক্ষাকেন্দ্র ও মসজিদের প্রধন আর্থিক অনুবাদ প্রদানকারী ব্যক্তি ফাতেমা কেটস। ব্রিটেনের ওকিংয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ নিমার্ণে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন ভারতে ভুপালের বেগম শাহজাহান।

ব্রিটেনে প্রথম মসজিদগুলো নির্মাণে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন নারীরা। তারা ধর্মকে তুলে ধরতে অক্রান্ত পরিশ্রম করেছেন। অবলিলায় ব্রিটেনের পুরাতন সব প্রথাকে ভেঙ্গে মুসলিম ঐহিত্যকে সবার কাছে পরিচিত করে তুলেছেন। যাদের হাত ধরেই ইসলাম এগিয়ে এসেছে আজকের অবস্থানে। আর তাই আজও আমরা শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করি আগ্রগামী সেই নারীদের। সূত্র: দ্যা কনভার্সেশন

অনুবাদ: শিক্ষিকা, ফেইথ ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি, গুলশান, ঢাকা।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ