বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ।। ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
গাজীপুরে আগুনে পুড়ে ছাই ১১ বসতঘর হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২ আগামীকাল বায়তুল মোকাররমে জুমা-পূর্ব আলোচনা করবেন আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বন্যাদুর্গতদের জন্য জুলাইয়ে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের উদ্যোগ হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের তফসিল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রেরণের নির্দেশ ইসির ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে’  ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩০৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

করোনা আতঙ্কে চীনে ১০ লক্ষাধিক উইঘুর মুসলিম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চীনের হুবেই প্রদেশে প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। কভিড-১৯ নামে এই রোগে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১ হাজার ৩৮৩ জন। বিশ্বব্যাপী এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

চীন সরকার করোনা বিষয়ে হুবেইসহ অন্যান্য প্রদেশকে গুরুত্ব দিলেও জিনজিয়াং প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায় উইঘুরদের বিষয়ে গুরুত্বই দিচ্ছে না। সেখানে বন্দি থাকা ১০ লক্ষাধিক মুসলিম করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। খবর আল জাজিরা ও সিএনএন’র।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে যে সব উইঘুর মুসলিম রয়েছে তারা এখন এই ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কেননা তারা সেখানে ‘বন্দি’ অবস্থায় রয়েছেন। অনেকের মতে, তাদের এ বন্দিদশা এক ধরনের ‘কোয়ারেন্টাইনের’ মতো।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য বলছে, হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার পর জিনজিয়াং প্রদেশে ৫৫ জনের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানে মারা যাওয়ার কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহানে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর থেকে চীনে এটি মহামারি আকার ধারণ করে। ভাইরাসটি চীনের ৩১ প্রাদেশিক পর্যায়ের অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তবে উইঘুর প্রতিনিধিরা বলছেন, তারা বিতর্কিত এ বন্দিশালায় দ্রুত করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। আর প্রদেশটিতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মারাত্মক একটি ছোঁয়াচে রোগ। হাঁচি, কাশি এমনকি করমর্দনের মাধ্যমেও ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে এ রোগ।

বন্দিশালায় যথেষ্ট নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিম। সেখানে জীবাণু বিনাশকারী সাবান ও বিশুদ্ধ পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এই আশঙ্কা করছেন অনেকেই। কারণ এরই মধ্যে সেখানে বেশ কয়েকজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, গণকারাগারে বন্দিদের আটকে রেখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

উইঘুর সম্প্রদায়ভুক্ত ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী দিলনুর রেইহান বলেছেন, ‘উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকরা কঠিন বিপদের সম্মুখীন। করোনা ভাইরাস প্রাদুভার্বের মধ্যেই আমাদের পরিবারের সদস্যরা সেখানে বসবাস করছে। আমরা জানি না তারা পর্যাপ্ত খাদ্য-পানি পাচ্ছেন কি না বা তাদের যথেষ্ট মাস্ক আছে কি না।’

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ