নিজস্ব প্রতিবেদক
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব গেট সংলগ্ন প্রাঙ্গণে চলছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা। দেশি-বিদেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মেলায় নানা বিষয়ের বই পাওয়া যাচ্ছে। তবে বইয়ের বৈচিত্র্য ও বড় পরিসরের আয়োজন থাকলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা মিলছে না বলে জানিয়েছেন স্টল পরিচালনাকারীরা। তাদের ভাষ্য, সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম থাকে। বিশেষ করে বৃহস্পতি ও শুক্রবার ছাড়া অন্য দিনগুলোতে বেচাকেনা তেমন জমে না।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি স্টলে নানা ধরনের বই সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বিকেলের দিকে কিছু দর্শনার্থী মেলায় এলেও অনেক স্টলেই ক্রেতার উপস্থিতি ছিল কম। কেউ বই দেখছেন, কেউ পছন্দের বইয়ের দাম জানতে চাইছেন; তবে কেনাকাটা করছেন তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ।
স্টলকর্মীরা জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। ওই সময় বই কেনার প্রবণতাও অন্য দিনের তুলনায় বেশি। তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিনে অনেক দর্শনার্থী মেলায় ঘুরে বই দেখলেও কেনাকাটা না করেই চলে যান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুস্তক বিপণন বিভাগের কর্মী রুহুল আমিন বলেন, এ বছর বইমেলায় বেচাকেনা আশানুরূপ নয়। মেলা কিছুটা দেরিতে শুরু হওয়াও এর অন্যতম কারণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যখন মাহফিল ও আলোচনা সভা হচ্ছিল, তখন একই সময়ে বইমেলা চালু থাকলে ক্রেতা ও দর্শনার্থী আরও বেশি পাওয়া যেত।
তিনি বলেন, দক্ষিণ গেটের দিকে মসজিদে আসা-যাওয়া করা মানুষের কারণে কিছুটা ক্রেতা পাওয়া যায়। তবে পূর্ব গেটের দিকে বেচাকেনা তুলনামূলক কম।
মেলায় স্টল পরিচালনার ব্যয়ও কম নয় বলে জানান তিনি। রুহুল আমিন বলেন, প্রতিটি স্টলের ভাড়া ১০ হাজার টাকা। ডেকোরেশনে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একজন কর্মচারীর পেছনে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে কোনো কোনো স্টলের মোট ব্যয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে।
আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের ইসলামি বইমেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২০৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে ১৪৪টি স্টল। বাংলাদেশ ছাড়াও মিসর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে।
মেলায় বাংলা ভাষার বইয়ের পাশাপাশি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষার বইও পাওয়া যাচ্ছে। তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও সিরাতের পাশাপাশি ইসলামি ইতিহাস, গবেষণা, সাহিত্য ও চিন্তাচর্চার বিভিন্ন বই রয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্যও রাখা হয়েছে নৈতিক ও ইসলামি শিক্ষামূলক বই।
পাঠকদের আকৃষ্ট করতে বইয়ের স্টলের পাশাপাশি ফিমেল কর্নার, লেখক কর্নার, মিডিয়া কর্নার, ইসলামিক ম্যাগাজিন কর্নার, শিশু কর্নার ও বিশেষ সিরাত এক্সিবিশনের আয়োজন করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ১২ সেপ্টেম্বর। মেলা চলবে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত।
আইও/