বেলায়েত হুসাইন: মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহ. এর জন্মস্থান আফগানিস্তান হলেও সেখানে বসবাস করতে পারেননি তারা। মঙ্গোলীয়দের উপর্যুপরি আক্রমণের ফলে একসময় তার জন্মস্থান বসবাসের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়ে।
এদিকে তৎকালীন সেলজুক সুলতান আলাউদ্দিন কায়কোবাদ তাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং ভক্তি করতেন। এ নাজুক পরিস্থিতিতে তিনি মাওলানাকে এ মর্মে সেলজুক রাজধানী কোনিয়াতে আগমনের আমন্ত্রণ জানান, যেন মাওলানা রুমী রহ. তার বাকি জীবন সেখানেই নিরাপত্তার সাথে অতিবাহিত করেন। সুলতানের আমন্ত্রণে মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহ. তুর্কি শহর কোনিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করে সেখানেই স্থায়ী হন।
১২৩১ সালের ১২ জুন মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহ. এর পিতা বাহাউদ্দীন ওলাদের ইন্তেকাল হয়। এসময় সুলতান আলাউদ্দিন কায়কোবাদ নিজের সবচেয়ে প্রিয় বাহারি ফুলে শোভিত চমৎকার একটি বাগান মাওলানা রুমী রহ.কে প্রদান করেন পিতাকে দাফন করার জন্য। আর সবুজে ঘেরা এ বাগানেই তিনি তার পিতার সমাধিকার্য সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে ১২৭৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর মাওলানা রুমী রহ. ইন্তেকাল করলে তাকেও সমাহিত করা হয় পিতার সন্নিকটে সেই ফুলবাগানেই । অতঃপর, হিসামুদ্দীন জালবী নামের মাওলানা রুমী রহ. এর একজন শাগরিদ প্রিয় মুরশিদের সমাধিকে কেন্দ্র করে একটি স্মৃতিস্থাপনা নির্মানের ইচ্ছার কথা জানান।
এরই প্রেক্ষিতে ১২৭৪ সালে সেলজুক আমির সুলেমান ব্রাউনাহর স্ত্রী গুরজু খাতুন ও আরেক আমির ইলমুদ্দীন কায়সারের অর্থায়নে মাওলানা রুমী রহ. এর সমাধিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয় স্থাপত্যশিল্পের দারুণ এক স্মৃতিস্থাপনা 'মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী স্মৃতিস্তম্ভ',যা চারটি লম্বাকৃতির পিলারের উপর একটি গম্বুজ বিশিষ্ট সৌধ ছিলো। ফিরোজা পাথরের নকশায় নির্মিত গম্বুজটি ছিলো মনকাড়া ও রুচিকর। ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় এভাবেই ছিলো এটি।
স্মৃতিস্তম্ভ থেকে স্মৃতি জাদুঘর: ১৮৫৪ সালে এসে মূলস্তম্ভে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত হয়। সেলিম উগ্লু আব্দুল ওয়াহেদ স্থাপনার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কাজ করেন এবং সৌন্দর্যবর্ধনে হাত লাগান। খোদাইকৃত কাঠ নিয়ে সমাধি কুঠির চারপাশকেও সাজিয়ে তোলেন তিনি।
অষ্টদশ শতাব্দী শেষে ঊনব