সুফিয়ান ফারাবী
ভ্রাম্যমান প্রতিবেদক
ওয়াজ মাহফিলে বক্তাদের বয়ানে ‘সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদে উৎসাহ দেওয়া, ধর্মের নামে বিভিন্ন উপদল তৈরি ও শোবিজ তারকার নামে বিষোদ্গার, নারীদের পর্দার বিষয়ে কটূক্তি’সহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে ছয় সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়টিকে ‘প্রাইমারি নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবে দেখছেন দেশের শীর্ষ আলেমেরা। তাদের ভাষ্য, কোনও বিশেষ বক্তা ‘বিতর্কিত’ কিছু বললে শুধু ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই পারে রাষ্ট্র। কিন্তু তা না করে ঢালাওভাবে সবার জন্য কঠোর পদক্ষেপে যাওয়াটা আলেমদের নিয়ন্ত্রণের কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।
তবে এ ব্যাপারে সরকারপক্ষ মনে করে, নিয়ন্ত্রণের কোনও কিছু নেই এতে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি অটুট রাখার স্বার্থে এই সুপারিশের প্রয়োজন আছে।
সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফাবা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সব বিভাগীয় কমিশনারের কাছে বক্তাদের ওপর কর আরোপের প্রস্তাবসহ ওয়াজ নিয়ে ছয়টি সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বক্তাদের ওপর কর আরোপের প্রস্তাবসহ ওয়াজ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৬ সুপারিশ
সুপারিশের মধ্যে করারোপ ছাড়া দেশবিরোধী বক্তব্য দিলে বক্তাদের আইনের আওতায় আনা ও উচ্চশিক্ষিত বক্তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার সুপারিশও করা হয়।
এ ব্যাপারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘বক্তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রাইমারি কৌশল আবিষ্কার করেছে তারা। আর এর প্রমাণ, এখানে এমন কিছু মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করেছে, যাদের সঙ্গে ইসলামের আদৌও কোনও সম্পর্ক নেই। এর মাধ্যমে তারা বক্তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রাইমারি লেভেলের কাজটা শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনও বক্তা সরকার বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কথা বলে থাকেন, তবে সরকার তাকে সতর্ক করতে পারে এবং তার বয়ানের ব্যাখ্যা তলব করতে পারে; সেটা না করে ঢালাওভাবে বক্তাদের জড়িয়ে নিয়ন্ত্রণের ছক আঁকা নিন্দনীয়।’
রাজধানীà¦