সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬ ।। ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১৩ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: শেহবাজ শরিফ ইরানের নতুন নেতারা কথা বলতে চায় বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান হামলা সামনের দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে: নেতানিয়াহু ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় কঠোর হমলা চলবে: ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সৌদি আরব বাড়ল ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম যুদ্ধ বন্ধে অবিলম্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জমিয়তের প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন খামেনি হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিলো হিজবুল্লাহ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর নামে প্রতারণা, সাবধান করল ইফা

কার্গিল যুদ্ধে ব্যবহৃত বিমান দিয়েই পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে ভারত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কৌশিক পানাহি: নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মিরের পাকিস্তান অংশে হামলা চালিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এ হামলা চালানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হামলায় পাকিস্তানের ‘জঙ্গি ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে একহাজার কেজি বোমা বর্ষণ করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও ভারতের এই অভিযানের কথা স্বীকার করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে মুজাফফরাবাদ সেক্টরে অনুপ্রবেশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। তবে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর ত্বরিত পদক্ষেপে ভারতীয় বাহিনী পালিয়ে যায়। এতে পাকিস্তানের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ওয়ান ইন্ডিয়া ও এনডিটিভিসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম বলছে, ১২টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়। এতে এক হাজার কেজি বোমা ফেলে ‘জঙ্গি’ ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযান শতভাগ সফল। নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে জাইশ-ই-মুহাম্মদের কন্ট্রোল রুম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, ভোর ৩টা ৪৮ থেকে ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত মুজাফফরবাদে হামলা চালানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে চকোটি ও বালাকোটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে জঙ্গিদের তিনটি ক্যাম্প ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় বাহিনী। উরি হামলার পর পাকিস্তানি সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি লঞ্চ প্যাড উড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। এবারও একই কায়দায় হামলা হয়েছে। আগের বার হামলা করেছিল প্যারা ট্রুপাররা; আর এবার হামলা চালিয়েছে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ‘মিরাজ’, যা ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল।

সাতের দশক থেকে ভারতের হাতে রয়েছে ফ্রান্সের দাসাল্তের তৈরি এই যুদ্ধবিমান। তবে তিন দশক আগে তৈরি হলেও এই বিমানের একাধিক আপগ্রেডেশন হয়েছে এই দীর্ঘ সময়ে। এর বিশেষত্ব, শত্রু দেশের রাডারকে ফাঁকি দিয়ে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে বোমাবর্ষণ করা।

মিরাজ-২০০০-এর চালকের মাথায় থাকা হেলমেটের মধ্যেই যুক্ত রয়েছে ডিসপ্লে। যুদ্ধবিমানে যেখানে ককপিটে রাডার থাকে, সেটা এই বিমানে রয়েছে চালকের কাছেই। ফলে আসনে থেকেই তিনি সুপারইমপোজড রাডার ডেটা দেখতে পান সরাসরি।

তার উপর, এটিতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তিশালী রাডার; যার সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে সহজেই, ডপলার বিমিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটিতে থাকা যেকোনও বস্তুর নিখুঁত মানচিত্র এঁকে ফেলতে সক্ষম। এতে রয়েছে ‘অটো ক্যানন’ বা কামান, যা শত্রু পক্ষের বিমানকে মাঝ আকাশে ধবংস করতে পারে অনায়াসে। পাশাপাশি রকেট থেকে শুরু করে লেজার গাইডেড বম্ব বহন করতে পারে বিমানটি।

একবার আকাশে উড়তে এই যুদ্ধবিমান প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কেজি ওজনের অস্ত্রশস্ত্র ও বোমা সঙ্গে নিতে পারে। কার্গিল যুদ্ধের সময়ও টলোলিং ও বাটালিক সেক্টরে পাকিস্তানের আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল এই মিরাজ-২০০০। বিজনেস টুডে-এর দাবি, এই মুহূর্তে ভারতের হাতে রয়েছে প্রায় ৪০টি মিরাজ যুদ্ধবিমান।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ