সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

‘গভীর রাতে চকবাজারে আতঙ্কীত মানুষের অশ্রু’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রিদওয়ান হাসান

কালরাত তিনটাতেও চকবাজারে ছিলাম। তখন ভবন ভস্ম হয়ে নিস্প্রভ আগুন জ্বলছিল। চারতলা ভবনের ছাদে জ্বলছিল ধিকিধিকি আগুন। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। খুবই সরু রাস্তা এবং পানির ব্যবস্থাও ছিল কম। যার কারণে আগুন সম্পূর্ণ কন্ট্রোলে আনতে পারেনি তারা।

আমি আর আমার সঙ্গে থাকা সাদী ভাই সেখানে গিয়ে দেখলাম, কালো ধোঁয়া রাতের আঁধারে মিলিয়ে যাচ্ছে। হতবিহ্বল মানুষ ভবন ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। কিছু কিছু বাইকারদের দেখলাম, বাইকের উপরেই হ্যান্ডেলের ওপর পা দিয়ে একধরনের মৃতভঙ্গিতে শুয়ে আছে। তাদের চোখে প্রাণ ফিরে পাওয়ার দ্যুতি তারার মতো চিকচিক করছে।

একেকজনের আতঙ্কগ্রস্ত চেহারা দেখে কোনো তথ্য নেয়ার ব্যর্থচেষ্টাও করলাম না। এই ধরেন, কিভাবে আগুনের সূত্রপাত, কোনো মানুষ মারা গেছে কিনা, কার বাড়ির আগুন, সে কী করত, তার আয়ের ব্যবস্থা হালাল ছিল কি হারাম, এই অগ্নিকাণ্ড আজাব নাকি প্রকৃতির প্রতিশোধ- এই ধরনের অনুসন্ধান কিংবা প্রেডিকশনে না গিয়ে মানবিকভাবে আমিও হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।

বাহির থেকে দেখে সব কিছু কন্ট্রোলে মনে হলো। কেউ হতাহত হয়নি, এমনটাই ধারণা ছিল সবার। একজন মিডিয়াকর্মীকে লাইভ বলতে শুনলাম। তিনি বলছেন, এখানকার নাগরিক খুব সচেতন। তারা আগুন দেখেই নিচে নেমে গেছে। তাই আপাতত কোনো মৃত্যুর আশঙ্কা নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অথচ সেই নিভন্ত অগ্নিকাণ্ড যেন ছাইয়ের ভেতর থেকে ফুঁসে ওঠা আগুনের মতো দাউদাউ করে উঠল। রাত তিনটায় যেখানে পরিস্থিতি সব নিয়ন্ত্রণে সেটা সকাল দশটা পর্যন্ত গড়ায়, আগুন কমে না। যেখানে কারোর হতাহত নিয়ে আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করল মিডিয়া। সেই মিডিয়ারই এখন বক্তব্য মৃতদের সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

আল্লাহ সকল নিহত লোকদেরকে শাহাদতের মর্তবা দিক। তাদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহ্যক্ষমতা দিক।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ