সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

মূত্রপাথরী চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ডাঃমাহতাব হোসাইন মাজেদ : মূত্রগ্রন্থি বা কিডনীর মধ্যে পাথরের টুকরো সৃষ্টি হলে তাকে বলে মূত্রপাথরী।এই পাথর কখনো মূএ কোষ,কখনো মূত্রবাহী নালীতে আবার কখনো বা মূএ স্হলীতে এসে জমা হয় তারপর প্রসাবের সঙ্গে আর বের হতে পারেনা বলে এই রোগেরর সৃষ্টি হয়। এই পাথর কণা কিডনী, মূত্রনালী বা মূত্রথলীতে এসে প্রসাব অবরুদ্ধ করে এবং অত্যন্ত যন্তণার সৃষ্টি করে। এই পাথর ছোট বড় নানা রকম হতে পারে।

সুস্হ অবস্হায় শরীরে পোষণের অনুপযোগী কোন কোন বাহ্য পদার্থ প্রসাব সহ নির্গত হয়ে থাকে কিন্তু পরিপাক বা পরিপোষণ কার্যের কোন গোলযোগ সৃষ্টি হলে নানাবিধ রোগ লক্ষণ প্রকাশ লাভ করে এবং মূত্রে ত্রুটি দেখা যায়। একটি পরিস্কার শিশিতে মূএ কিছুক্ষণ রাখলে যদি ইটের গুড়া বা বালুকার মত তলানি পড়ে তাহলে কুঝতে হবে রোগীর মধ্যে মূত্রপাথরী নামক রোগের সৃষ্টি হয়েছে। তখন অতি সূক্ষ্ম বালুকণাতুল্য বা সর্ষের পরিমাণ প্রস্তরকণা অথবা শিমবীজ পরিমাণ প্রস্তর খন্ড সদৃশ ছোট মাঝারি বা বড় নানা আকারের পাথরী মূত্রযন্তে বা মূত্রনালীতে বা মূত্রথলীতে জমা হতে থাকে।

এটাকেই মূত্রপাথরী বলে।বর্তমানে এই রোগটি ব্যাপক ভাবে দেখা যাচ্ছে।এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি লাভ করছে। সাধারণত নারীদের অপেক্ষা পুরুষদের এই রোগ বেশী হয়।

লক্ষণ : বার বার প্রসাব হয়।প্রসাবের সময় ও পরে লিঙ্গ মুখে বেদনা এবং যতক্ষণ পর্যন্ত পাথরী বহিস্কৃত না হয় ততক্ষণ বারবার প্রসাবের ইচ্ছে হয়। প্রস্রাবে জ্বালা- যন্তণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বেগ এবং প্রস্রাবের ধারা বারে বারে আটকে যাওয়া। মূত্রে পুজ ও শ্লেস্মা মিশ্রিত থাকে এবং কখনো কখনো রক্ত পড়ে। মূত্রগ্রন্হি থেকে মূ্ত্রধারে পাথরী আসার সময় রোগীর কুঁচকী ও অন্ডকোষ প্রভৃতি স্হানে অত্যন্ত যন্তণা ও কষ্ট হয়। পাথরী বের হয়ে গেলে যন্ত্রণা কমে যায়।

কোন প্রকার ভারী জিনিস তুলতে গেলে বা রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ বেদনার উদ্রেক হয়। বেদনা কোন একদিকের কিডনীর বা ইউরেটারের স্হানে বেদনা আরম্ভ হয়ে নিম্নে কুচকীর দিকে কখনো পেটে বা বুকে প্রসারিত হয়।কখনো কখনো আবার জ্বর থাকে এবং দেহের তাপমাএা ১০৩ ডিগ্রী হতে ১০৪ডিগ্রী অথবা ১০৫ ডিগ্রী পর্যন্ত হতে পারে।

রোগ নির্ণয় : আধুনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে মূএ পাথরী রোগ নির্ণয় অতি সহজ এবং সঠিক ভাবে নির্ণয় করা যায়।পেটের এক্সরে করলে পাথরী stone কোথায় আছে তা দেখা যায়। পাথর কোথায় জমা আছে কিডনীতে, ইউরেটারে, ব্লাডারের, না ইউরেথ্রায় তা সঠিক ভাবে নির্ণয় করতে এক্সরে সাহায্য করে।

আর হোমিওপ্যাথি হল কোন রোগের চিকিৎসা দেয় না বরং চিকিৎসা দেয় রোগীর, রোগীর পুরা লক্ষণ নির্বাচন করে এক জন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক চিকিৎসা দিতে পারলে তাহলে মূত্র পাথরী রোগীর চিকিৎসা দেওয়া আল্লাহর রহমতে হোমিওতে সম্ভব।

প্রাথমিক ভাবে যেই সব ঔষধ লক্ষণের উপর আসতে পারে, ক্যালকেরিয়া কার্ব, লাইকোপডিয়াম, ওসিমাম কেনাম, বার্বেরিস, সার্সাপেরিলা, লিথিয়াম কার্ব, ক্যানথারিস, পেরেরা ব্রেভা, ইউনাইমিন, মেনথা পিপারেটা, এসিড ফস,চিনিনাম সালফ, ডায়োস্করিয়া, এসিড অকজালিক সহ আরো অনেক ঔষধ লক্ষণের উপর আসতে পারে, তাই অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া ঔষধ নিজে নিজে ব্যাবহার করলে রোগ আরো জটির আকারে পোঁছতে পারে।

লেখক,
কো- চেয়ারম্যান, হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ