সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎অতিবৃষ্টি হলে যে দোয়া পড়বেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই

‘মাওলানা সাদকে দূরে ঠেলে নয় পরিশুদ্ধির জন্য কাছে টানতে হবে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

পার্থিব এজীবনে তো মানুষের কতকিছুরই প্রয়োজন হয়। সবকিছুর সঙ্গে প্রয়োজন হয় আত্মশুদ্ধি। জ্ঞানীদের ভাষ্যমতে আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি একটু ভিন্ন। তারা এটিকে মনে করেন দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতার সিড়ির উত্তম মাধ্যম।

মানুষের জীবনে আত্মশদ্ধির প্রয়োজনীয়তা, আত্মিক পবিত্রতা ও সমসাময়িক কিছু বিষয় নিয়ে আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদক কাউসার লাবীব কথা বলেছেন চিন্তক আলেম, মুহাদ্দিস, পীরে কামেল শায়খ হামদুল্লাহ রাহমানীর সঙ্গে।

আত্মশুদ্ধি অর্জনের বিষয়টি আপনি  কীভাবে দেখেন? মানুষের জীবনে এটি কেমন প্রভাব ফেলতে পারে? কতটা আলো ফেলতে পারে পার্থিব এ জীবনের বাঁকে?

মহান আল্লাহ ভালোবেসে মানুষ তৈরি করেছেন, প্রণয়ডোরে বেঁধেছেন একে অপরের মাঝে বন্ধন। এর জোরেই মানুষ জোছনার জলে ভেজে, আবিরের রঙ্গে নিজেকে রাঙায়। চলে পৃথিবীর মেঠোপথে। দুনিয়ায় চলতে ফিরতে মানুষের যেমন শারীরিক শক্তির প্রয়োজন তেমন প্রয়োজন অবসাদহীন সবুজ এক মনের।

মনের জোর ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। আর এ মনের জোরের জন্য মানুষের দরকার পবিত্র একটি মনের। আর পবিত্র মনের জন্য দরকার মনকে পবিত্র করণ। অর্থাৎ আত্মশুদ্ধির।

মানুষের দুই প্রকার রোগ হয়, একটি শারিরীক আরেকটি আত্মিক। আত্মিক রোগের পরিত্রাণকেই বলে আত্মশুদ্ধি। যদি মানুষ সুস্থ থাকে কিন্তু আত্মা থাকে অপবিত্র তাহলে তার জীবনের জন্য তা অশুভকর। এ অশুভ থেকে বাঁচার জন্য মানুষের আত্মশুদ্ধি অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন, অপরিহার্য অংশ।

আত্মশুদ্ধি নিজে নিজে করা সম্ভব নাকি কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির কাছে, কোনো ওলি বুযুর্গের কাছে গিয়ে করতে হবে?

আল্লাহ পাক কুরআনে বলেন ‘ওয়ুযাক্কিহিম’। এটা ফে‘লে মুতাআদ্দি। যার মানে হলো এটা নিজে নিজে অর্জন করা সম্ভব নয়। কোনো একজন পীর বুযুর্গের কাছে গিয়ে অর্জন করতে হবে। তবে তার জন্য যেতে হবে হক্কানি পীর বুযুর্গের কাছে।

শায়েখ! আপনি হক্কানি পিরের কথা বলছিলেন। আচ্ছা একজন মানুষ কীভাবে একজন পীরকে বুঝবে তিনি হক্কানি? ভণ্ড এবং হক্কানি পীরের মাঝে কীভাবে মানুষ পার্থক্য তৈরি করবে?

হক্কানি পীর চিনতে হলে পীরের কয়েকটি বিষয়ের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। একজন হক্কানি পীর সুন্নতের প্রতি যত্নশীল হবে এমনকি তার থেকে মুস্তাহাব আমলেরও কমতি পাওয়া যাবে না। তার হৃদয়ে থাকবে না দুনিয়ার অযাচিত লোভ।

বর্তমানে অনেক পীর ব্যবসার জন্য খানকা নিয়ে বসে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।তাদের কাছে নিজের ইমানকে বিলিয়ে দেওয়া যাবে না।

মুরিদ হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে আসা ৩৬০ আউলিয়ার আদর্শগুলো নিজের পীরের মধ্যে খুঁজে দেখতে হবে। কেননা আমাদের এ দেশে কিন্তু ইসলামের পতাকা তারাই উড্ডীন করেছেন।

আমাদের দেশে যেসব মাধ্যমে ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে সেগুলোর মধ্যে পীর আউলিয়াদের যেমন অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে, তেমন তাবলিগ জামাতের ভূমিকা রয়েছে অমলীন। কিন্তু বর্তমানে তাবলিগ জামাতে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে অস্থিরতা কাজ করছে। এসব অস্থিরতা কোনোভাবে মুছে ফেলা সম্ভব কী?

ওলামায়ে কেরামের মধ্যে ইখতেলাফ যেমন রহমত তেমন জহমতও (অশুভ লক্ষণ)। সাদ সাহেবকে নিয়ে, তার কিছু বক্তব্য নিয়ে একটা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এজন্য আমাদের উচিৎ হবে আমাদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করা।

সাদ সাহেবের কিছু মতাদর্শের কারণে তাকে দূরে ঠেলে না দিয়ে বরং তার পরিশুদ্ধির জন্য কাছে টেনে নিলে তাবলিগের চলমান এ সঙ্কট কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।

ওলামায়ে কেরাম তো বারবার মাওলানা সাদকে কাছে টানার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ওলামায়ে কেরাম তো বলছেন, তিনি তাদের আহ্বানে তেমন সাড়া দিচ্ছেন না।

তিনি তো তার কিছু বক্তব্যের কারণে সমালোচিত। তার বক্তব্যের রেশ ধরে ওলামায়ে কেরাম অনেক সমালোচনা করেছেন, প্রতিবাদ করেছেন। সেজন্য হয়তো সাদ সাহেব ওলামায়ের আহ্বানে তেমন সাড়া দিচ্ছেন না।

তবে সেজন্য তাকে তো ফেলে দিলে চলবে না। তার মধ্যে তো আল্লাহ পাক এলেম দান করেছেন।

তিনি তো একজন আলেম। আমার মনে হয় তাকে যেভাবেই হোক আমাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার ব্যবস্থা করতে হবে। তাকে নিবিড়ভাবে বুঝাতে হবে।

আপনার কাছে সর্বশেষ জানতে চাইবো, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ইলেমের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে কী পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত?

মাদরাসার শিক্ষার্থীদের আত্মশুদ্ধির জন্য দাওরা হাদিস পাশ করার পর আলাদাভাবে একবছর উস্তাদের কাছে থাকা উচিত। উস্তাদ যদি তাদের আত্মশুদ্ধির জন্য আলাদাভাবে পরিচর্যা করে তাহলে প্রত্যেকটা মাদরাসার ছাত্র ইলেমের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির দৌলত নিয়ে মাদরাসা থেকে বের হবে।

আত্মশুদ্ধি ছাড়া মুক্তি অসম্ভব : আল্লামা আবদুল হালিম বুখারি

-আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ