সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

বাংলাদেশি বামপন্থিদের বালকসুলভ ব্যাধি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুস সাত্তার আইনী

মানুষ অসুস্থ হলে, ব্যাধিগ্রস্ত হলে নিজের চিকিৎসা করায়। কিন্তু বাংলাদেশি বামপন্থীরা নিজেদের মন ও মগজে, চিন্তায় ও চেতনায় ব্যাধি বহন করে। তারা নিজেদের প্রগতিশীল ও অন্যদের প্রতিক্রিয়াশীল মনে করে। কিন্তু ওরা যে কত বড় প্রতিক্রিয়াশীল তা আমি নিজ চোখে বহুবার দেখেছি।

জামিয়া রাহমানিয়াতে থাকতে আমি আজিজ সুপার মার্কেটে যেতাম। ওখানে কিছু বামপন্থী বালকের সঙ্গে দেখা হতো। তারা তাদের বদহজমের বমি আমার সামনেই উদ্গীরণ করতো।

একজন একবার বলেছিলো, ইসলাম যাকাতের সুযোগ দিয়ে পুঁজিপতিদের সুবিধা করে দিয়েছে।

আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশে পুঁজির বিকাশ ঘটেছে লুণ্ঠনের মাধ্যমে; স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকজন কোটিপতি ছিলো। এখন কোটিপতির সংখ্যা লাখলাখ। তারা তাদের লুন্ঠনের টাকা জনগণকে ফেরত দিক, কাউকে যাকাত দিতে হবে না। এই যে আজিজ সুপার মার্কেট এটাও দাঁড়িয়ে আছে লুণ্ঠিত ভূমির ওপর; কারণ এটা পিজি হাসপাতালের সম্পত্তি।

বামপন্থীরা একাত্তর থেকে নিয়ে পঁচাত্তর পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নেয় নি; তারা একের পর এক অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে বা অভ্যুত্থান ঘটানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।

যারা বামপন্থী বুদ্ধিজীবী নামে পরিচিত তাদের প্রায় সবাই একাত্তর সালে পাকিস্তান সরকারের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছে। কবীর চৌধুরী বলি, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলি বলি সবাই নিরাপদ আশ্রয়ই বেছে নিয়েছিলেন।

এ-সকল বুদ্ধিজীবীর প্রকৃত চরিত্র অঙ্কন করেছেন আহমদ ছফা। তিনি লিখেছেন : ‘সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে জাতীয় মধ্যশ্রেণীভুক্ত বুদ্ধিজীবীরা সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেতা এই রাষ্ট্রীয় চতুস্তম্ভের জয়ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে ফেলেছিলেন। রেডিও-টেলিভিশনে তোষামোদ, চাটুকারিতা, নির্লজ্জ আত্মপ্রচার মানুষের সুস্থ কা-জ্ঞানকে একরকম মুছে ফেলতে উদ্যত হয়েছিলো।

সন্ত্রাস, গুম, খুন, ছিনতাই, দস্যুতা, মুনাফাখোরি, কালোবাজারি, রাজনৈতিক প্রতিপকে নির্বিচার হত্যা এগুলো একান্তই নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মানুষের হনন প্রবৃত্তি, লোভ রিরংসার এরকম নির্লজ্জ আত্মপ্রকাশের সিংহদুয়ার খুলে দেয়ার ব্যাপারে তৎকালীন সরকার মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল।

এই ধরনের একটি মাৎস্যন্যায় পরিস্থিতিতে বুদ্ধিজীবীদের অবশ্যই একটি পালনীয় ভূমিকা ছিল, একটা দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তাঁরা সেদিন তাঁদের ওপর আরোপিত দায়িত্ব বিস্মৃত হয়ে যাবতীয় অমানবিক কর্মকা-ে সরকারের মদদ দিয়ে নিজেদের আখের গুছাবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।’ [সাম্প্রতিক বিবেচনা : বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস]


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ