বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন ভোটাররা ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

জিনদের মধ্যে কি কেউ নবী ছিলেন?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

শাহনূর শাহীন: জিন জাতির মধ্য থেকে নবী ও রাসুল এসছে কিনা এ নিয়ে রয়েছে বিস্তর মত পার্থক। তবে জমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো নবী রাসুলের আগমন ঘটেনি। হযরত ইবনে আব্বাস রা. মুজাহিদ রহ. হযরত কালুবি রহ. হযরত আবু উবাইদ রহ. প্রমুকই একই রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন।

সুরাহ আল-আনআমের ১৩০ নং আয়তে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায় তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে নবী রাসুলগণ আসেননি’?

হযরত মুজাহিদ রহ. এ আয়তের তাফসীরে লিখেছেন, জিনদের মধ্য থেকে কোনে ানবী আসেননি। জিনদের মধ্য থেকে এসেছেন নাযযারাহ বা সতর্ককারী। এরপর তিনি তার বক্তব্যের স্বপক্ষে তিনি কুরআনের অন্য একটি আয়াত থেকে প্রমাণ পেশ করেন।

সুরাহ আল আহকাফ এর ২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যখন কুরআন পাঠ শেষ হলো,  তখন তার (জিন) তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেলো’।

সুতরাং বুঝা গেলো আগের আয়াতের তোমাদের মধ্য থেকে কথা দ্বারা জিনদের ব্যপারে উদ্দেশ্য হলো রাসুলদের পাঠানো দূত।

ইমাম যাহাক রহ. এর মতে জিনদের মধ্য থেকে নবী এসেছেন। তাকে এ ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তুমি কি শোননি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন ‘‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায় তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে নবী রাসুলগণ আসেননি’?সুরাহ আল-আনআম, আয়াত নং ১৩০।

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে মানুষ ও জিন সম্প্রদায়ের রাসুলদের কথা বলেছেন।(তথ্যসুত্র:ইবনে জারীর)

আল্লামা ইবনে হাযম রহ. বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ সা. এর আগে মানুষদের মধ্য থেকে জিনদের প্রতি কোনো নবী রাসুল আসেনি। কারণ তারা মানুষ বা মানব জাতির মধ্যে শামিল নয়।

অপর দিকে রাসুল সা. বলেছেন, পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবী ও রাসুলকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে নবী-রাসুল করে পাঠানোা হয়েছিলো।

শুধুমাত্র মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ সা. যেহেতু সমস্ত মাখলুকাতের নবী সেহেতু মুহাম্মদ সা. এর আগমের পর জিনদের মধ্য থেকে নবী বা রাসুল আসেননি কিন্তু মুহাম্মদ সা. এর আগে জিনদের মধ্য থেকেই নবী-রাসুল এসেছে।

হযরত আব্বাস রা. এর থেকেও এরুপ একটি মত পাওয়া যায়। আল্লাহর বাণী ‘জমিন সপ্তাকাশের অনুরুপ’ এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, আসমান যেমন সাতটি জমিনও সাতটি। সব জমিনেই হযরত আদমের মতোএকজন আদম আছে, ইবরাহিমের মতো একজন ইবরাহিম আছে, ঈসার মতো একজন ঈসা আছে।(তথ্যসুত্র:ইবনে জারীর)

তবে অনেক আলেম এর ব্যাখ্যা এরুপ করেছেন, তারা ছিল কিছু জিন। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুল ছিলেন না। কিন্তু আল্লাহ তাদের জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তারা মানুষের মধ্য থেকে আবির্ভূত রাসূলগণের হিদায়তের বাণী মেনে চলেছেন। এরপর নিজ সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে তাদের হুশিয়ারি করেছেন।

জিনদের মধ থেকে নবী বা রাসুল এসছিলো কি না এব্যপারে মত পার্থক্য থাকলেও হযরত মুহাম্মদ সা. এর আগমনের পর তিনিই ছিলেন জিন ও মানব জাতির জন্য একমাত্র রাসুল এ ব্যপারে সবাই একমত। কেননা রাসুল সা. নিজেই বলেছেন, ‘আমি জিন ও মানব জাতির প্রতি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি’ (মুসলিম শরীফ, কিতাবুল মসজিদ হাদিস নং ০৩, মুসনাদে আহমাদ ১:২৫০, েইবনে হাব্বান হাদিস নং২০০, তাফসিরে ইবনে কাসীর ৬:১০০।

সুত্র: জিন ও ফেরেশতাদের বিস্ময়কর ইতিহাস। পৃষ্ঠা ৬৩-৬৬।

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ