সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‎অতিবৃষ্টি হলে যে দোয়া পড়বেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই

কওমি মাদরাসায় অভিভাবক সম্মেলন ও কিছু প্রস্তাবনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

লাবীব আব্দুল্লাহ : এই সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহে কওমি মাদরাসার ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে৷ শুরু হবে দরস৷ শিক্ষাবর্ষ ১৪৩৮-৩৯ হিজরি৷ নতুন শিক্ষাবর্ষে তালেবে ইলমদের সরব পদচারণায় মুখরিত মাদরাসার আলোকিত প্রাঙ্গণ৷

ভর্তির সময় অনেক মাদরাসায় অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক৷ অনেক মাদরাসায় সরাসরি তালেবে ইলম ভর্তি হচ্ছেন, অভিভাবক কোনো খোঁজও রাখেন না৷ অনেক অভিভাবক জানেন না জামাত বা ক্লাসের নাম৷ জানেন না মারহালা বা শ্রেণির নামও৷ জানেন না কিতাবের নামও৷

অভিভাবক বিশ্বাস করেন মাদরাসাকে৷ বিশ্বাস রাখেন শিক্ষকের উপর৷ বিশ্বাস রাখেন সন্তানের সিদ্ধান্তে৷ কোনো কোনো তালেবে ইলম অভিভাবককে ভুল তথ্য দিয়ে ভর্তি ফি, বোর্ডিং ফি অতিরিক্ত আনে৷ অনেক তালেবে ইলম দামি মোবাইল সেট কিনে অভিভাকরের কষ্টের টাকা নষ্ট করে অথচ প্রয়োজনীয় কিতাবটাও কিনতে আগ্রহী নয়৷

তাই, তালেবে ইলমের সার্বিক উন্নতির স্বার্থেই অভিভাবককে মাদরাসার সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে৷ তালেবে ইলমকেও আমানতদারির সাথে অভিভাবককে সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে হবে৷ মাদরাসাকেও উদ্যোগী হতে হবে অভিভাবকদের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার৷

মাদরাসা কর্তপক্ষ, অভিভাবক এবং তালেবে ইলম এই তিনের সমন্বয় থাকলে তালেবে ইলমদের আদর্শ জীবন গড়তে সহজ হবে৷ এই সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজন অভিভাবক সম্মেলন করা৷

প্রস্তাবনা ১.  মাদরাসার দরস শুরুর সময়, পরীক্ষার ফলাফের সময় বা অন্য যেকোনো ছুটির সময় দেখে অভিভাবক সম্মেলন করা যেতে পারে৷

২. অভিভাবক সম্মেলনের সূচি তৈরি করে একটি মানসম্পন্ন কার্ডও করা যেতে পারে৷ যেখানে কে কী আলোচনা করবেন তার উল্লেখ থাকতে পারে৷ যেমন সন্তান প্রতিপালনে অভিভাকের দায়িত্ব কর্তব্য, দীনি শিক্ষা কেন প্রয়োজন? কওমি মাদরাসা কী ও কেন? দারুল উলুম দেওবন্দ: ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান, আধুনিক শিক্ষা এবং দীনি শিক্ষা এই জাতীয় আরও কোনো বিষয়ের উপর আলোচনা করা যেতে পারে৷ প্রয়োজনে এই জাতীয় বিষয়ে লিখিত প্রবন্ধ বিতরণ করা যেতে পারে অভিভাবক সম্মেলনে।

৩. অভিভাবক সম্মেলনে উন্নত খাবার পরপিবেশ করা যেতে পারে৷ খাবারের আগে খাবারের সুন্নতসমূহ আলোচনা হতে পারে বা এই জাতীয় কোনো বই হাদিয়া হিসেবে দেওয়া যেতে পারে৷ সবাই যেনো খাবার খেতে পারেন তার জন্য আয়োজন গোছালো করা উচিৎ৷

৪. অভিভাবক সম্মেলনে কোনো কালেকশন না করে মাদরাসার পরিকল্পনা ও প্রয়োজন লিখিতভাবে প্রদান করা যেতে পারে যা উন্নত খামে ভরা থাকবে৷ অভিভাবক যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে নিজ উদ্যোগে সহায়াতও করবেন৷

৫. অভিভাবক সম্মেলনে পুরনো অভিভাবকদের কোনো অভিযোগ থাকলে অভিযোগ বক্স রাখা যেতে পারে৷ অথবা অভিভাবক তাদের পরামর্শের কথা গঠনমূলকভাবে বলবেন সম্মেলনে৷

৬. অভিভাবক সম্মেলনে বিশুদ্ধভাষী উপস্থাপক রাখা৷ যারা যে বিষয়ে আলোচনা করবেন তা পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা বেশী দীর্ঘ আলোচনা বা একই কথা বার বার বলা বিরক্তির কারণ হতে পারে তাই সীমিত সময়ে আয়োজন শেষ করা৷

৭. মাদরাসা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা৷ ফুল বা ফলের গাছে সুশোভিত রাখা যেন মাদরাসর পরিবেশ স্বাস্থ্যকর থাকে৷ অভিভাকরা যেনো নিজের বাসা থেকে মাদরাসার পরিবেশকে উন্নত মনে করেন৷

৮. অভিভাকর সম্মেলনে দেশের শীর্ষ আলেম শিক্ষাবিদ আলেমদের অতিথি আলোচক হিসেবে দাওয়াত দিলে আয়োজন হবে প্রানবন্ত৷

৯. ছাত্রদের কৃতিত্ব, পোষ্যদের ফলাফলপত্র বা রেজাল্ট কার্ড, দীনি বই, মাদরাসার ডায়েরি, মাদরাসার পরিচিতি, মাদরাসার বার্ষিক হিসাব অডিটসহ একটি খামে ভরে অভিভাবকদের হাদিয়া হিসেবে দেওয়া যেতে পারে৷

১০. প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকতে পারে৷ মুহতামিম, নাযেমে তালীমাত, নাযেমে দারুল ইকামা, নাযেমে মাতবাখ থাকতে পারেন উত্তর প্রদান প্যানেলে ৷ অভিভাবকগন আয়োজনে কোনো প্রশ্ন করলে সংশ্লিষ্টগন সুন্দরভাবে উত্তর দেবেন৷ অভিভাবক সম্মেলনের অনেক উপকার৷ যেসব মাদরাসাগুলো প্রতি বছর অভিভাবক সম্মেলন করে আগ্রহীগন সেই আয়োজনগুলোতে হাজির হয়ে ধারণা নিতে পারেন৷ বাস্তব অভিজ্ঞতা হবে৷

মাদরাসাগুলো সাড়ে চৌদ্দ শত বছর থেকে দীনি ইলমের আলো বিতরণ, বিচ্ছুরণ করে যাচ্ছে বিশ্বময়৷ দেশ -জাতি রাষ্ট্র উপকৃত হচ্ছে কওমি মাদরাসার অবদানে৷ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রয়োজন দীনি শিক্ষার দূর্গ কওমি মাদরাসার৷ এই মাদরাসা সম্পর্কে সচ্ছ ধারণা দেওয়া উচিৎ যারা নিজ হৃদয়ের টুকরোকে পাঠেয়েছেন আল্লাহর পথে৷ ফি সাবিলিল্লাহে৷ যারা "মুহাররার" আল্লাহর পথে৷

কওমি মাদরাসা সকল তথ্যসন্ত্রাসের মোকাবেলা করে একুশ শতকের চাহিদা পূরণে আরও কার্যকর, গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশা৷ দেশের ভালোবাসা, সুনাগরিক গঠন এবং ঈমান ও আযাদীর লড়াই অজেয় সৈনিক উপহার দেবে এই দুআ দরবারে ইলাহীতে৷ অভিভাবকগন সৌভাগ্যের অধিকারী যারা শত সমস্যার পরও নিজ সন্তানকে পাঠিয়েছেন কওমী মাদরাসায়৷ প্রতিটি মাদরাসায় বছরে কমপক্ষে দুইবার অভিভাবক সম্মেলন হবে এই আশা৷

-পরিচালক, ইবনে খালদুন ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ