মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন ভোটাররা ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

হাওরাঞ্চলের ছয় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৮ লাখ পরিবার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হাওরাঞ্চলের ছয় জেলায় বন্যায় মোট দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট লাখ ৫০ হাজার ৮৮টি পরিবার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার আগে শুক্রবার হাওর পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতির হালনাগাদ এ তথ্য তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সচিব ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মোহাম্মদ মহসীন হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের সামনেও তুলে ধরেন।

গতমাসের শেষ দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা তালিয়ে যায়। বোরো ধান কাটার এই মওসুমে হঠাৎ এই বন্যায় লাখ লাখ কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। এরপর পানি বিষাক্ত হলে মাছ মরা শুরু হয়; তারপর মরতে থাকে হাঁস।

পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দল ওই এলাকা ঘুরে পানি পরীক্ষা করে বলে, প্রাথমিকভাবে ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের দুই হাজার ৮৬০টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৫ হাজার ৩৪৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ছয় জেলায় মোট ২১৩ দশমিক ৯৫ মেট্রিক টন মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে; সুনামগঞ্জে তিন হাজার ৯০২টি হাঁস ও চারটি মহিষ মারা গেছে।

ছয় জেলার ক্ষতির বিবরণ

জেলা

ক্ষতিগ্রস্তউপজেলারসংখ্যা

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন সংখ্যা

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা

সম্পূর্ণক্ষতিগ্রস্ত জমি

(হেক্টর)

সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি

সুনামগঞ্জ

১১

৮৮

১,৭২,৬১৭

১,০২,৪৩৬

২৬০০

১৫০০০

সিলেট

১৩

১০৫

২,১২,৫৭০

২৬,৭১৫

২০

১০

নেত্রকোণা

১০

৮৬

১,৬৭,১৮০

১৯,৫৬৬

-

-

কিশোরগঞ্জ

১৩

৫৬

১,৪৮,৬৮৭

৪৫,২৫৬

-

-

হবিগঞ্জ

০৮

৬৪

৭৪,৪৪০

১৫,৯৫৩

৪৬

৫১

মৌলভীবাজার

০৭

৬০

৭৪,৫৯৪

৯,৯১৪

১৯৪

২৮৪

মোট

৬২

৫১৮

৮,৫০,০৮৮

২,১৯,৮৪০

২৮৬০

১৫,৩৪৫

 

মৎস্য সম্পদের ক্ষতির চিত্র

জেলা

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংখ্যা

ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের সংখ্যা

মৎস্য সম্পদের ক্ষতি (মে. টন)

সুনামগঞ্জ

১১

২৩

৪৯.৭৫

সিলেট

২১

নেত্রকোণা

১৪

১১৮.৮২

কিশোরগঞ্জ

হবিগঞ্জ

মৌলভীবাজার

২৫

সর্বমোট

২০

৪৬

২১৩.৯৫

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের দুই হাজার ৮৬০টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৫ হাজার ৩৪৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এই ছয় জেলায় মোট ২১৩ দশমিক ৯৫ মেট্রিক টন মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে তিন হাজার ৯০২টি হাঁস ও চারটি মহিষ মারা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষ দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা তালিয়ে যায়। এই বন্যায় লাখ লাখ কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। এরপর পানি বিষাক্ত হলে মাছ মরা শুরু হয়; তারপর মরতে থাকে হাঁস। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দল ওই এলাকা ঘুরে পানি পরীক্ষা করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

লোক দেখানো ত্রাণ নয়; হাওরবাসীকে বিনাসুদে ঋণ দিন


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ