বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮


ডেঙ্গু হলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: এআই

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম, শরীরে পানিশূন্যতা রোধ এবং পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। জ্বর ও শরীরের ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো কিছু ব্যথানাশক এড়িয়ে চলতে হয়। এসব ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বেশি করে তরল পান

ডেঙ্গু হলে শরীরে পানিশূন্যতা ঠেকাতে পর্যাপ্ত তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপসহ বিভিন্ন তরল নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। বমি বা ডায়রিয়া থাকলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল গ্রহণ বাড়াতে হতে পারে।

সহজপাচ্য খাবার

ডেঙ্গু রোগীর খাবারের তালিকায় ভাত, খিচুড়ি, ডাল, স্যুপ, নরম সবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফল রাখা যেতে পারে। ক্ষুধা কম থাকলে একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া ভালো। শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ডিম, মাছ ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও পরিমাণমতো খাওয়া যেতে পারে।

প্লাটিলেট কমলে কী করবেন?

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যেতে পারে। তবে শুধু প্লাটিলেট বাড়ানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। পেঁপের পাতার রস, অ্যালোভেরার জুসসহ বিভিন্ন প্রচলিত উপায়ের কার্যকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

লেবু, আমলকী, ডালিম, মিষ্টি কুমড়া, সবুজ শাকসবজি ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল পুষ্টিকর খাবার হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। তবে এসব খাবার সরাসরি প্লাটিলেট বাড়ায়—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই সুষম খাবারের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের পরীক্ষা ও রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

পেঁপের পাতার রস কতটা কার্যকর?

ডেঙ্গুতে পেঁপের পাতার রস বা পাকা পেঁপের জুস প্লাটিলেট বাড়ায়—এমন দাবি প্রচলিত থাকলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণার ফল এখনো নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করার মতো নয়। তাই চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এসব ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু রোগীর খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, তাজা ফল, ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার, প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত মসলাদার ও অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?

ডেঙ্গুর জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তবমি, কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

সূত্র: বিবিসি

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ