বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১১ জিলহজ ১৪৪৭


হামের লক্ষণ দেখা দিলে যা করণীয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক ব্যাধি, যা সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। তবে যেকোনো বয়সের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বর্তমান বিশ্বে এ রোগে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। বিশেষভাবে বাংলাদেশে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাসটি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে। তারপর ধীরে ধীরে মাথা থেকে শরীরের নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

*লক্ষণসমূহ:

হামের প্রধান লক্ষণ হলো শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়। ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে শুরু করে চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক থাকে। তাছাড়া আরও উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো:

১. উচ্চমাত্রায় জ্বর

২. নাক দিয়ে পানি পড়া

৩. কাশি

৪. চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া

*উপযোগী খাবার:

হাম থেকে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য সুষম পুষ্টি ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। এ সময় পরিকল্পিত ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকা প্রয়োজন।

১. ফলের রস ও হালকা খাবার: প্রাথমিক পর্যায়ে কমলা ও লেবুর মতো ফলের রস দেওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়।

২. পর্যাপ্ত তরল খাবার: পানিশূন্যতা এড়াতে প্রচুর পানি, স্যুপ, পানিযুক্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়াতে হবে। কুসুম গরম তরল খাবার শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।

৩. ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার: ভিটামিন ‘এ’ সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। গাজর, মিষ্টি আলু, পালংশাক ও ব্রকলি খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

৪. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার উপকারী।

৫. জিংক সমৃদ্ধ খাবার: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে লাল মাংস, মুরগি, শিম, বাদাম ও পূর্ণ শস্য উপকারী।

৬. ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার: লেবুজাতীয় ফল, স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও কিউই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

*এড়িয়ে চলুন-

১. চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার।

২. অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া।

৩. ঝাল খাবার।

৪. ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (যা পানিশূন্যতা বাড়ায়)।

*অতিরিক্ত যত্ন:

হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। এ সময় শিশুর সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এটি দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার এবং বিশ্রামের সমন্বয়ই দ্রুত আরোগ্যের মূল চাবিকাঠি।

শিশুর খাদ্যতালিকা বা উপসর্গ নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

 

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ