মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ।। ২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ মহর্‌রম ১৪৪৮


যে ক্যালিগ্রাফারের হাতে বদলে গেছে কাবার সৌন্দর্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

কাবা শরিফের গিলাফ বা কিসওয়াহ দেখলে অনেকের মনেই এক অপূর্ব মুগ্ধতা জাগে। কালো রেশমে স্বর্ণখচিত কুরআনের আয়াত, সূক্ষ্ম কারুকাজ আর নান্দনিক ক্যালিগ্রাফি—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি আবরণ নয়, বরং এক গভীর আধ্যাত্মিক শিল্পকর্ম। কিন্তু এই মহিমান্বিত শিল্পের পেছনে যাঁদের হাতের ছোঁয়া লুকিয়ে আছে, তাঁদের কথা খুব কমই আলোচনায় আসে।

তেমনই এক নীরব শিল্পী ছিলেন আব্দুর রহিম আমিন বুখারি—মক্কায় জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি এক ক্যালিগ্রাফার ও ডিজাইনার। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি কাবা শরীফের কিসওয়াহ তৈরির পবিত্র কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বায়তুল্লাহর সেবায় নিবেদিত এক অনন্য অধ্যায়।

আব্দুর রহিম বুখারির হাতেই তৈরি হয়েছে প্রায় ২১টি কিসওয়াহ। কাবা শরীফের গিলাফে যে পবিত্র আয়াতসমূহ সোনালি সূচিকর্মে ফুটে ওঠে, সেগুলোর ক্যালিগ্রাফি নকশার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর।

শুধু কিসওয়াহ নয়, কাবা শরিফের দরজার পর্দা (বুরকা)-এর নকশাতেও তাঁর শিল্পীসত্তার ছাপ ছিল স্পষ্ট। সূক্ষ্ম রেখা, ভারসাম্যপূর্ণ লেখা এবং আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে তিনি তৈরি করতেন এমন নকশা, যা কেবল চোখ নয়—হৃদয়কেও ছুঁয়ে যায়।

সৌদি আরবের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দুই শাসনামলেও তাঁর শিল্পকর্মের স্বীকৃতি পাওয়া যায়। বাদশাহ আবদুল আজিজের আমলে কাবা শরীফের প্রথম আধুনিক দরজার ক্যালিগ্রাফি তিনি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বাদশাহ খালিদের শাসনামলেও নতুন দরজার নকশায় তাঁর হাতের ছোঁয়া যুক্ত হয়। এই কাজগুলো শুধু নকশা ছিল না—বরং ছিল ঈমান, শিল্প ও দায়িত্ববোধের এক পবিত্র সংমিশ্রণ।

একজন শিল্পীর কাজ কতটা মূল্যবান হলে ইতিহাস তাকে মনে রাখে—তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠেন আব্দুর রহিম বুখারি। তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন বাদশাহ ফয়সাল ইবন আবদুল আজিজ কিসওয়াহর গিলাফে স্থায়ীভাবে তাঁর নাম ‘বুখারি’ খোদাই করার নির্দেশ দেন। এটি ছিল কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং বায়তুল্লাহর ইতিহাসে একজন শিল্পীর অবিনশ্বর স্বাক্ষর।

বায়তুল্লাহর ইতিহাস শুধু পাথর, দেয়াল বা স্থাপত্যের ইতিহাস নয়। এটি ভালোবাসা, ইখলাস এবং নীরব সেবারও ইতিহাস। আব্দুর রহিম আমিন বুখারির মতো মানুষরা সেই ইতিহাসের অদৃশ্য অধ্যায়, যাঁদের হাতের কাজ যুগের পর যুগ ধরে মানুষকে মুগ্ধ করে চলেছে।

তাঁদের জীবন আমাদের শেখায়—কখনো কখনো সবচেয়ে বড় অবদান হয় নীরবে, আড়ালে, কিন্তু তা ইতিহাসের পাতায় থেকে যায় চিরস্থায়ী হয়ে।

সূত্র: ইন্টারনেট

আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ