|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||
একটি পরিবারের স্বপ্ন গড়তে লাগে বহু বছর; অথচ একটি অসতর্ক উচ্চারণই কখনো মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্বপ্নকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। সেই উচ্চারণের নাম— ডিভোর্স বা তালাক।
ইসলাম এটিকে নিষিদ্ধ করেনি, আবার খেলনাও বানায়নি; বরং সর্বশেষ প্রয়োজনের জন্য সংরক্ষিত একটি দায়িত্বশীল শরয়ি বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তবে এটাও সত্য, যেখানে নির্যাতন, জুলুম বা দাম্পত্য জীবনের উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে জোর করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাও ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।
আল্লাহ তাআলা দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া। পবিত্র কুরআনে এসেছে, “তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।”-সূরা আর-রূম: ২১
ইসলামের প্রথম লক্ষ্য সংসার রক্ষা করা, ভাঙা নয়। যখন সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, তখন ডিভোর্স বা তালাককে সর্বশেষ সমাধান হিসেবে বৈধ করা হয়েছে। এজন্য তালাকের আগে ইসলাম আপস বা মীমাংসার নির্দেশ দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা কর, তবে তার পরিবার থেকে একজন এবং তার (স্ত্রীর) পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করো। তারা যদি মীমাংসা করতে চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে সম্প্রীতি সৃষ্টি করে দেবেন।”— সূরা আন-নিসা: ৩৫
রাগ, আবেগ বা ঠাট্টার ছলে তালাক উচ্চারণ করা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ, রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, “বিবাহ, তালাক ও রুজু— গুরুত্বের সঙ্গে বলা হোক বা ঠাট্টার ছলে, সব ক্ষেত্রেই তা কার্যকর।”
— সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২১৯৪; সুনান তিরমিজি, হাদিস: ১১৮৪
মনে রাখবেন, তালাকের কারণে পরিবার ধ্বংস হয় না; ধ্বংস হয় তালাকের অপব্যবহারে। সুতরাং রাগ নয়, শরিয়তের বিধান; আবেগ নয়, তাকওয়া— এ দুটিকেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি বানাতে হবে। কারণ, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি— “যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন।”
-সূরা আত-তালাক: ২
সর্বশেষ কথা হলো- ডিভোর্স বা তালাক কেবলমাত্র দুজন মানুষেরই বিচ্ছেদ নয়; অনেক সময় এটি দুটি পরিবার, কয়েকটি হৃদয় এবং নিষ্পাপ সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। তাই তালাক উচ্চারণের আগে রাগ নয়, বিবেক; আবেগ নয়, তাকওয়া; প্রতিশোধ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই প্রাধান্য দিন। আর যদি বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়, তবে তা যেন হয় শরিয়তের বিধান, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার আলোকে।
লেখক: শিক্ষক, গবেষক ও ঔপন্যাসিক
আওয়ার ইসলাম/জেডএম
