শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


সৌদির এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন ইবির শিক্ষার্থী সায়েম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ‘এআই হ্যাকাথন ফর পিপল উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন ও তাঁর দল। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা সহজ করতে তৈরি ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার হিসেবে ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল পেয়েছেন সায়েম।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবক অংশ নেন। সায়েম বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, সায়েমের উদ্ভাবিত ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’ ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ (থ্রিডি প্রিন্টিং) প্রযুক্তির মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা গ্রহণ সহজ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।

প্রচলিত ব্রেইল বইয়ের ডটগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র হওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করা ও শেখা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অনেক শিক্ষার্থী ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষার ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী ও গ্রন্থাগার তুলনামূলক সমৃদ্ধ হলেও আরবি, বাংলা ও উর্দুর মতো লাতিন-বহির্ভূত লিপিভিত্তিক ভাষার ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে।

এ বাস্তবতায় প্রচলিত ব্রেইল পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশেষত আরবি ভাষা ও কোরআনিক শিক্ষা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কাছে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ‘দ্য ওরিয়েন্টাল ব্রেইল প্রজেক্ট’।

সায়েম হোসেন বলেন, বিশ্বের ২৩টি আরবিভাষী দেশ এবং ৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার চিন্তা থেকেই এ উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, যেসব শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ব্রেইল পাঠ্যসামগ্রী নেই, তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।

তিনি বলেন, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার সুবাদে প্রতিবন্ধিতা ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

নিজের সুপারভাইজার ড. এ কে এম আজাদের অবদানের কথা উল্লেখ করে সায়েম জানান, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আজাদের তত্ত্বাবধান তাঁকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছে। এ ছাড়া দলের সদস্য ইয়াকুব শাকিলও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ভালো করছেন। সায়েমের এ অর্জন প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সায়েম আরও ভালো করবেন।

তিনি আরও বলেন, বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে গবেষণায় কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবে গেছেন এবং ছয় থেকে আটজন শিক্ষক জিএসটিতে রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ