বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ৪৯ তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে রাজধানীর আদাবরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিআ ইসলামিয়া বাইতুল আমান। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে শতভাগ পাসের (১০০%) গৌরব অর্জন করেছে।
প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, জামিআ ইসলামিয়া বাইতুল আমান থেকে এবারের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মোট ৮৩ জন ছাত্র অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় মেধাতালিকায় (বোর্ড স্ট্যান্ড) স্থান লাভ করে প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান অর্জনকারী কয়েকজন কৃতি ছাত্র:
তাহফিজুল কুরআন: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আফফান (১ম স্থান) এবং তানভীর হাসান (৩য় স্থান)।
ইবতিদাইয়া: বায়েজীদ বোস্তামি (৫ম স্থান), মো: শাহাদত মিয়া (১৫তম স্থান) এবং মো: আশরাফুল ইসলাম (২৬তম স্থান)।
মুতাওয়াসসিতা: মো: হাসিবুর রহমান (১৪তম স্থান), মো: আব্দুল মোহাইমিন (২০তম স্থান) এবং মাবরুর হোসাইন (২৪তম স্থান), মো. নাজিম (২৭ তম স্থান), মো. রবিউল ইসলাম (৩১ তম স্থান), মো. উমর ফারুক (৪৯ তম স্থান) এবং মুহাম্মদ তানজীল হাসান (৫২ তম স্থান)।
ফলাফলের সামগ্রিক পরিসংখ্যান:
মোট পরীক্ষার্থী: ৮৩ জন।
মোট মেধাস্থান (বোর্ড স্ট্যান্ড): ২০ জন।
মুমতায (স্টার মার্ক): ৩৬ জন।
জায়্যিদ জিদ্দান (১ম বিভাগ): ৩০ জন।
জায়্যিদ (২য় বিভাগ): ১৬ জন।
মাকবুল (৩য় বিভাগ): ০১ জন।
প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম ও শিক্ষকমণ্ডলী এই অসামান্য সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানান, নিবিড় তদারকি এবং উন্নত তালীম-তারবিয়াতের কারণেই প্রতিটি স্তরে এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, বুধবার (১৮ মার্চ) বেফাক মিলনায়তনে দুপুর ১১টায় বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বোর্ডের ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, গড় পাসের হার ৮০:৯৫%। মুমতায (স্টার মার্ক) ৫৩,৫০০ জন। জায়্যিদ জিদ্দান (প্রথম বিভাগ) ৫৫,৭৪৭ জন। জায়্যিদ (২য় বিভাগ) ৬৫,৬৭৩ জন। মাকবুল (৩য় বিভাগ) ১,১১,৬৭১ জন। মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ২,৮৬,৫৯১ জন।
পরীক্ষার ফলাফলের যাবতীয় তথ্য বেফাকের নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.wifaqresult.com)-এ পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ঈসাব্দ হতে ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ঈসাব্দ পর্যন্ত সারা দেশের ৫৯৮টি দরসিয়াত ছাত্র ও ১৩৩৮টি দরসিয়াত ছাত্রী কেন্দ্রে, ৩৯৯টি হিফয ছাত্র ও ৫০টি হিফয ছাত্রী কেন্দ্রে এবং ২২টি ইলমুত তাজবীদ ওয়াল কিরাআত (ছাত্র-ছাত্রী) কেন্দ্রে মোট ৭টি স্তরে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী মোট পরীক্ষার্থী ৩,৫৪,০৩৬ জন।
এতে দরসিয়াত ছাত্র অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ১,০৩,৫৮৪ জন, ছাত্রী অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ২,০৯,২৪২ জন, তাহফিজুল কুরআন ছাত্র অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ৩৭,৬৮৫ জন, ছাত্রী অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ২,৪৭৪ জন ও ইলমুত তাজবীদ ওয়াল কিরাআত অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থী ১,০৫১ জন।
এমএম/