শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১ রবিউস সানি ১৪৪৮


দৌলতপুরে পানিবন্দি ৮০ হাজার মানুষ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবারকে নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে।

বন্যার পানি প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুই ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পানিবন্দি মানুষ আশ্রয় নিতে পারেন, সেজন্য বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, কৃষি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার পর উজানের পানি ও বৃষ্টির পানি একসঙ্গে নেমে আসায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিই নদীর পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এক সপ্তাহে নদীর পানি প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার প্রায় ৯২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, তার ইউনিয়নে ২০ থেকে ২৩টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। যেসব বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে, সেসব পরিবারের সদস্যদের নৌকার মাধ্যমে তুলনামূলক নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচলের প্রধান অবলম্বন এখন ডিঙি ও ছোট নৌকা। বেশ কিছু বাড়িঘর সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে এবং অধিকাংশ বাড়ির চারপাশে পানি উঠেছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান উদ্দিন বলেন, ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে ইউনিয়নের প্রায় সব রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পুরো ইউনিয়নের মানুষই অনেকটা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। আমার ইউনিয়নের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী এক দিনের মধ্যে আরও অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করতে পারে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

তিনি জানান, গত বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এসব জমিতে থাকা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি আরও বাড়লে কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ