সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ ।। ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২১ মহর্‌রম ১৪৪৮


কী হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মাদরাসায়?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বিশেষ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম দেওভোগ মাদরাসায় রোববার (৫ জুলাই) দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কথিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, শিক্ষকদের বহিষ্কার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বিক্ষোভ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো মাদরাসা এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদরাসার ভেতরে বাংলাদেশ কওমি ছাত্রপরিষদের একটি গোপন কমিটি সক্রিয় রয়েছে। তারা দাবি করেন, এ কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ, সংগঠনটির উপদেষ্টা মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর পদত্যাগ এবং অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত সিনিয়র উস্তাদদের সসম্মানে পুনর্বহাল করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে তারা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ছায়া কমিটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর কয়েকজন সিনিয়র উস্তাদ শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানান। পরে ওই শিক্ষকদের বহিষ্কার করা হলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

দিনের একপর্যায়ে মাদরাসার প্রধান ফটকের বাইরে 'এলাকাবাসী' পরিচয়ে কিছু লোকের জমায়েত হয় বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, এসব ব্যক্তির মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মীও ছিলেন এবং তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে অবস্থান নেন। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে শিক্ষার্থীরা মাদরাসার প্রধান ফটক বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংঘর্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মীর আহমদ উল্লাহ ফুয়াদ আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, হামলায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা জড়িত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আহত ফুয়াদকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বিএনপি নেতা জাকির খান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে মাদরাসায় যান বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। তবে এ বিষয়ে জাকির খানের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

দিনভর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওভোগ মাদ্রাসা এলাকায় অতিরিক্ত লোকসমাগম দেখা যায় এবং উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে এ বিষয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাংলাদেশ কওমি ছাত্রপরিষদ, জামায়াত বা ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

/আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ