আজ রোববার (৫ এপ্রিল) ভোরে ‘এমটি শান গাং ফা জিয়ান’ নামের একটি জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। জাহাজটি দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট দূর করতে মালোশিয়া থেকে বহর করে এনেছে ৩৪ হাজার টন ডিজেল।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল নিয়ে এসেছে। তেল সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। এর আগে, শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে দ্রুত জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যেন বাজারে কোনো ধরনের ঘাটতি না-দেখা দেয়।
এদিকে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার হাতে নিয়েছে বড় পরিসরে আমদানি পরিকল্পনা। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ১ লাখ টন অকটেন কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ লাখ টন ডিজেল এবং ১ লাখ টন অকটেন আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশটির আরেক কম্পানি ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদিত হয়েছে। আর কাজাখস্তানের কম্পানি কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদিত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এতে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পারেনি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জেডএম/