সৈয়ব আহমেদ সিয়াম, চবি প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে দ্বিতীয় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে দুই দিনে আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক বলে চবি মেডিক্যাল সেন্টার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে সেনাবাহিনীসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ।
শনিবার রাত প্রায় ১২ টা থেকে রবিবার (৩১ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে চবির ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ঘটনায় তাদের পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত ১০ থেকে ১২ জন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনায় যৌথবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চবি এলাকায় তারা অভিযান শুরু করেছে। বিকেল ৪ টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ক্যাম্পাসের আশপাশে যৌথবাহিনীর অন্তত ১০ টি গাড়ি প্রবেশ করতে দেখা যায়।
প্রো-ভিসি (প্রশাসনিক) ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, 'স্থানীয়দের হামলায় আমাদের কয়েক শত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য গেলে আমি, প্রো-ভিসি (একাডেমিক) এবং প্রক্টরও হামলার শিকার হই। স্থানীয়দের সাথে চবিয়ানরা দীর্ঘকাল ধরে সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। আমি আমার শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ করছি। এলাকাবাসীকেও শান্ত হওয়ার বিনীত অনুরোধ করছি।'
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করেন। জারি করা আদেশে বলা হয়, 'চবি এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্বসীমা থেকে পূর্বদিকের রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশেই রবিবার দুপুর ২ টা থেকে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করা হলো।'
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নাম্বার গেটে একজন নারী শিক্ষার্থী রাতে দেরী করে বাসায় ফিরে। মধ্যরাত হওয়ায় বাসার দারোয়ান মেয়েটার সাথে রূঢ় ব্যবহার করে। দারোয়ানের আচরণের প্রতিবাদে কিছু শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানাতে যায়। এই সময়েই শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের উচ্চবাচ্যের মাধ্যমে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এই ছোট ঘটনা থেকে বিশাল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ জন্ম নেয়।
স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তৃণা জানান, 'আমরা আহত শিক্ষার্থীদের সেবায় কাজ করছি। ফার্স্ট এইড নিয়ে কাজ করছি। মেডিকেলে আহতদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। বাইরে মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা আশা রাখি, সব কিছু দ্রুতই সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ।'
রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো ভিসি সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ প্রশাসন ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে তারা মতবিনিময় করেন। সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আছে।
এমএইচ/