চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্বসীমা থেকে পূর্বদিকে রেলগেট পর্যন্ত এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল-বিক্ষোভ, গণজমায়েত এবং অস্ত্র বা বিস্ফোরক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
শনিবার রাতে শুরু হওয়া সংঘর্ষ রোববার দুপুরেও অব্যাহত থাকে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর আগে শনিবার রাতের সংঘর্ষে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়, যাদের মধ্যে ২১ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ভবনে প্রবেশ নিয়ে এক ছাত্রী ও দারোয়ানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান ছাত্রীটিকে মারধর করলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। তখন স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইক ব্যবহার করে গ্রামবাসী লোকজন জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।
রবিবার দুপুরে আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বাঁধে। এতে প্রক্টরসহ নতুন করে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ আরিফ বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে। সহ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এমএইচ/