শাব্বির আহমাদ খান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে
দ্রুত ইসলামী ব্যাংক কাকরাইল হাসপাতালে ভর্তি। বর্তমানে নুর ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন বিভিন্ন মহল। অনেকেই একে ‘নৃশংস হামলা’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিস্থিতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ঘটনাটিকে বিশ্লেষণ করছেন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক কায়েম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নুরুল হক নুর জাতীয় নেতা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে সম্মুখসারির যোদ্ধা। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা প্রমাণ করে আমাদের সংস্কারের অনেক পথ বাকি।
এনসিপির উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “প্ল্যান-বি হলো জাতীয় পার্টির উপর ভর করে লীগকে ফেরানো। সেজন্য জাতীয় পার্টির বিষয়ে জিরো টলারেন্সে উত্তরপাড়া-দক্ষিণপাড়া মিলে-মিশে একাকার। নুর ভাইদের উপর বর্বরতম হামলার মূল কারণও এটা। অর্থাৎ জাতীয় পার্টির বিষয়ে স্ট্রং মেসেজ দেওয়া হলো সব দলকে। আওয়ামী লীগ যেভাবে অপরাধী, তার দোসর, বি টিম এবং বৈধতা দানকারী জাতীয় পার্টিও একইভাবে অপরাধী।”
এ ছাড়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ তার ফেসবুকে লেখেন, “ভিপি নূরের উপর হামলাটাকে আমি ন্যাচারাল লেন্স দিয়ে দেখি না। এটা একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। জাতীয় পার্টির ভ্যানগার্ড আকারে ইন্টিরিম, মিলিটারি, প্রশাসন দাঁড়িয়েছে—এটা সত্য। সেই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝেও দোদুল্যমান অবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে সামনের দিনগুলো নেতৃত্বের জন্য কঠিনই বটে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নুরুল হক নূরের ওপর এ হামলার প্রতিক্রিয়া শুধু সমর্থক মহলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষত, জাতীয় পার্টির ভূমিকা, রাজনৈতিক জোটের ভবিষ্যৎ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে, নুরুল হক নূরের ওপর হামলা কেবল একটি ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেও আলোচনায় এনে দিয়েছে। আগামী দিনে এ হামলার প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মাঠে কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেই দিকেই নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরএইচ/