বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মুসলিম স্কলার, পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেমে দীন আল্লামা মুফতি তাকী উসমানীকে বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরেই তিনি বাংলাদেশে আসতে পারেন।
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ এক ফেসবুক পোস্টে এই বার্তা জানিয়েছেন।
মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ ফেসবুকে লিখেন-
‘আলহামদুলিল্লাহ। ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ। অচিরেই বাংলাদেশর এই পবিত্র ভূমি ও দেশের উলামা মাশায়েখ এবং তালিবান উলুমে নবুওয়ত ধন্য হতে যাচ্ছেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাক্বী উসমানী দা. বা.-এর ফয়েজ ও বরকতে। দরসে বুখারী ও হাদীসে মুসালসালাতের আযীম নিআমতও পেতে যাচ্ছেন শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের তালাবায়ে কিরামসহ অসংখ্য ইলম হাদীস অনুরাগী মেহমানানে রসুল সা.। ইনশাআল্লাহ। হযরতের সুদীর্ঘ হায়াত, শারীরিক সুস্থতার জন্য সকলের নিকট বিশেষ দুআর আবেদন রইল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ লিখেন- সময় মত সব কিছু সবিস্তারে জানতে পারবেন, এই মুহূর্তে এতটুকুই। এই নিয়ে অতি আবেগী না হওয়ার জন্য প্রিয় ছাত্র ভাইদের প্রতি নিবেদন রইল। বরং একনিষ্ঠতার সাথে দারস ও তাদরীসে মনোযোগ দেই। শিক্ষা বৎসরের শেষের দিকে বাকি কথা হবে। ইনশাআল্লাহ। জাযাকুমুল্লাহু আহসানাল জাযা।
আরেক পোস্টে তিনি লিখেন- সকলের প্রতি অনুরোধ, কেউ বাড়িয়ে-কমিয়ে কিছু লিখবেন না প্লিজ। হযরত ওয়ালা দা.বা.-এর সফর একক কারো উদ্যোগে নয়। বরং অনেক বড়দের উদ্যোগ, মেহনত ও দুআর ফসল। নিজের পক্ষ থেকে কিছু না লিখে উক্ত লেখাটা শেয়ার করাই যথেষ্ট। বেশি শেয়ার ও প্রচার থেকে বিরত থাকাই ভাল। এখন প্রয়োজন বেশি বেশি দুআ করা আর দুআ। জাযাকুমুল্লাহ।
এর আগে গত জুন মাসে আল্লামা মুফতি তাকী উসমানী বাংলাদেশে আসছেন বলে একটি খবর ছড়িয়েছিল। স্কলার আলেম ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর একটি ভিডিও সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ নভেম্বর মুফতি তাকী উসমানী বাংলাদেশে আসবেন। কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের কথাও জানানো হয়।
লাখ লাখ আলেম-উলামার কাছে প্রিয় মুফতী তাকী উসমানী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে না আসায় এই খবর শুনে অনেকে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বিশ্ববিখ্যাত এই আলেমের সান্নিধ্য পাওয়ার কথা ভেবে অনেকে আনন্দিতও হচ্ছেন। তবে এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে হজের সফরে জামারাতে বাংলাদেশি একজন আলেমের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় মুফতি তাকী উসমানীর। সেখানে তাঁকে বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো কিছু নির্ধারণ হয়নি।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর ফকীহুল মিল্লাত মুফতী আব্দুর রহমান রহ.-এর দাওয়াতে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন মুফতি তাকী উসমানী। এরপর থেকে তিনি আর বাংলাদেশে আসেননি। বিভিন্ন সময় তাঁকে আনার চেষ্টা করা হলেও তৎকালীন সরকার এ ব্যাপারে সায় দেয়নি।
তবে গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হওয়ায় পরিস্থিতি এখন অনেকটা অনুকূলে। এজন্য এদেশের আলেমদের প্রাণের দাবি, মুফতি তাকী উসমানীর মতো বিশ্ববিখ্যাত আলেমদের এ দেশে আসার সুযোগ অবারিত করে দেওয়া হোক।
আরএইচ/