বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বেফাক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধি

কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিদ্বেষ ছড়ানো, হামলা এবং বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)। একই সঙ্গে মাদরাসার অভ্যন্তরে কোনো ধরনের অনিয়ম, অপরাধ কিংবা শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত অবস্থান ঘোষণা করতে যাচ্ছে বোর্ডটি। এ ক্ষেত্রে কোনো অপরাধ বা অনিয়মকে প্রশ্রয় না দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা ভাবছে।

আগামী ১২ নভেম্বর বেফাকের শূরা সদস্যদের এক জরুরি বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে মাদরাসার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অপপ্রচার, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের আগেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি এসব পরিস্থিতিতে বেফাকের করণীয়, সাংগঠনিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হবে।

বেফাকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এবং সেগুলোকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা বক্তব্য ও প্রচারণার বিষয়টি বেফাকের নীতিনির্ধারকদের নজরে এসেছে। এসব ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ণয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় বোর্ডটি। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা কিংবা আলেম-উলামার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হলে তার প্রতিবাদ ও প্রতিকারে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।

সূত্র জানায়, মাদরাসার বিরুদ্ধে হামলা, অপপ্রচার ও বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘটনায় বেফাকের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে মাদরাসার ভেতরে সংঘটিত কোনো অনিয়ম বা অপরাধের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না—এমন নীতিগত অবস্থানও স্পষ্ট করা হবে। বেফাকের আওতাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানে অপরাধ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।

এ লক্ষ্যে অভিযোগ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটিতে বেফাকের কেন্দ্রীয় কমিটির দুজন সদস্য, কেন্দ্রীয় অফিসের দুজন দায়িত্বশীল, দুজন পরিদর্শক এবং গণমাধ্যমের দুজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে কমিটির সঙ্গে আরও ব্যক্তিকে যুক্ত করার সুযোগও রাখা হতে পারে।

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বেফাকের দায়িত্বশীলদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। এতে ঘটনার স্থানীয় প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে কোনো ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বা এলাকাবাসীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে তাও প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা মোকাবিলায় যেমন সাংগঠনিক অবস্থান প্রয়োজন, তেমনি মাদরাসার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। এ দুই দিককে গুরুত্ব দিয়ে বেফাকের অবস্থান নির্ধারিত হলে কওমি মাদরাসাগুলোর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং অনিয়ম-অপরাধ প্রতিরোধে তা ভূমিকা রাখতে পারে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ