বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ ।। ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকা মহানগরীতে দিনের বেলায় ২ শিফটে বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কর্মসূচি বেফাকের ১২২ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল দ্বীনি চেতনা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা: বাড়ছে তেলের দাম অবহেলায় মায়ের মৃত্যু, শাস্তির মুখে সেই যুগ্ম সচিব কিশোরগঞ্জে খেলাফত ছাত্র মজলিসে যোগ দিলেন ৩৬ শিক্ষার্থী শাহজালালে ১৫০ হাজির লাগেজ কাটার অভিযোগ, তদন্তে কর্তৃপক্ষ রুমিন ফারহানার মন্তব্যের নিন্দা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে: খেলাফত মজলিস গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সর্বপ্রথম রাজপথে নেমেছি আমরা: আমিরে মজলিস

সব দল ইভিএম বাতিল চাইলে বিবেচনা করা হবে: নির্বাচন কমিশন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির ১০ দফা দাবির মধ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি বাতিলের আহ্বান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন পদত্যাগের আহ্বান নাকচ করে বলেছে, কোনো একটি দলের কথায় কমিশন পদত্যাগ করবে না। তবে সব দল চাইলে ইভিএম পদ্ধতি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

গত শনিবার রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘বিষয়টা হলো যে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন চাহিদা থাকতে পারে। আমরা কাজের মাধ্যমে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করব। আমাদের কোনো পক্ষপাতিত্ব আছে কি না সেটা দেখেন। ইকুয়েল (সমান) আচরণ করছি কি না সেটা দেখেন। একটা দল আরেকটা দলের কাছে চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যদি নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করা হয়, সেটা তো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগ সবসময় থাকবে, যখন মনে হবে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার দরকার, তখন তো অবশ্যই করব।’

ইভিএম নিয়ে বিএনপির অনাস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওনারা আগে থেকেই অনাস্থার কথা বলেছেন। আবার অনেকের আস্থা আছে। আমাদের কাজ হলো সবকিছু বিবেচনা করে যেটা সঠিক মনে হবে সেটাই সিদ্ধান্ত নেব। ৩৯টি নিবন্ধিত দল আছে। সবাই যদি ইভিএম বাতিল চায়, তখন যে প্রক্রিয়া আছে সেটাই হবে। আর এক বা দুটি দল যদি না চায় অন্যরা যদি চায়, তাহলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যেটা হয় সেটাই করতে হবে।’

ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই উল্লেখ করে ইসি আলমগীর বলেন, ‘ইভিএমে যত নির্বাচন করেছি, হেরে যাওয়ার পর দেখেন কোনো অভিযোগ আছে কি না। কিন্তু যেখানে ব্যালটে নির্বাচন হয়, সেখানে ভোট ঠিকমতো করেনি, ভোট আগে দেয়, পরে দেয়; নানা কথা হয়। ইভিএমের প্রভাব বিস্তার করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সামর্থ্য থাকলে ৩০০ আসনেই ইভিএমে নির্বাচন করতাম।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন করাটা যদি মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে আমি বলব যে ইভিএম ভালো। এ দেশে নির্বাচনে যারা হেরে যান, তারাই বলেন যে কারচুপি হয়েছে। কাজেই কেউ যদি হেরে যান বলার সুযোগ থাকবে না যে, কারচুপি হয়েছে।’

বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের কারণে আসনগুলো শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে সেগুলোতে উপনির্বাচন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা মিডিয়ায় (গণমাধ্যম) দেখেছি, ওনারা পদত্যাগ করেছেন। এ জন্য আসন শূন্য হওয়ার কোনো গেজেট পাইনি। যদি সত্যিকার অর্থেই ওনারা পদত্যাগ করে থাকেন, তাহলে আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।’

উপনির্বাচন হলে কয়েক মাসের মধ্যেই আবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন, এ বিষয়টি সামনে আনলে এ কমিশনার বলেন, ‘এটা তো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। গেজেট পাওয়ার পর দেখা যাবে যে দুই মাস লাগতে পারে, দেড় মাসও লাগতে পারে। নির্বাচন করতেই হবে। কারণ আসন শূন্য রাখার তো কোনো সুযোগ নেই।’

এমপিদের পদত্যাগ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের পদত্যাগ ভিন্ন একটি ইস্যু। যতটা না নির্বাচন সম্পর্কিত, ততটা রাজনৈতিক। এটা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছি। একজন সংসদ সদস্য তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এটা সংবিধানে বলা আছে যে, কীভাবে পদত্যাগ করবেন। এখানে ইসির উৎসাহ, নিরুৎসাহিত করার কোনো সুযোগ নেই।’

ইসি আলমগীর আরও বলেন, ‘নিবন্ধিত দল হিসেবে আমরা যেকোনো সময় ওনাদের (বিএনপি) সঙ্গে আলোচনা করতে চাইতে পারি। ওনারাও চাইতে পারেন। আমাদের যখন যে দায়িত্ব পালন করা উচিত তখন সেভাবেই দায়িত্ব পালন করব। রাজনৈতিক বিষয়গুলো রাজনীতিবিদরা দেখবেন, সরকার দেখবে। আমাদের কাজের লিমিট (সীমা) দেওয়া আছে। সরকারের সঙ্গে সভা করে দেওয়ার আয়োজন বা সংলাপ করা ইসির দায়িত্ব নয়।’

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ