শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  কুরআন-হাদিসের আলোকে জামাতের গুরুত্ব গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ইস্যুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী  দাওয়াতি কার্যক্রম গতিশীল ও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ সিলেটে ৩ হত্যাকাণ্ডে নিহত স্বামী-স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন হাফেজে কুরআনদের উৎসাহিত করতে মালদ্বীপ সরকারের নানা উদ্যোগ ১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামীকালের জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন সফল করার আহ্বান জুলাই শহীদদের স্মরণে রংপুরে শায়খে চরমোনাইয়ের দোয়া ও ইসলাহি ইজতেমা

একজন সাদামনের আলেমের বিদায়!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আল আমিন রাহমানী: হাফেজ মাওলানা আব্দুস সালাম রহ. জামিয়া রাহমানিয়ায় দীর্ঘদিন হিফজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। আমিও হুজুরের কাছে কিছুদিন (২০১০) পড়েছি। একদম সরল, নিরহঙ্কার ও সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ ছিলেন।

আমরা হিফজ বিভাগ থেকে কিতাব বিভাগে আসার পর, কোনো প্রয়োজনে হিফজখানায় গেলে খুব সমাদর করতেন। সরাসরি ছাত্র হওয়ার পরেও হিফজখানায় গেলে সরলমনে টুপি খুলে বলতেন মাওলানা সাব একটু ফুঁ দিয়ে দেন। লজ্জা লাগতো, তারপরও মুহাব্বত করে বলাতে ফুঁ দিতাম। হুজুর খুশি হতেন। এ ঘটনা অনেকের সাথেই ঘটতো।

হুজুরের দুইটা কথা সবসময় মনে পড়ে। ১। হুজুর বলতেন—টিনের চালের যে স্থানে স্ক্রু লাগানো হয়, ওটা মজবুত থাকে। ঝড় তুফানে কিছু হয় না। আর যেখানে স্ক্রু থাকে না, সেটা দুর্বল থাকে, হালকা বাতাসেও টলে যায়। হুজুরদের শাস্তিগুলোও তেমন। যেই পড়ায় বেতের বারি পড়েছে, ওটা বেশি ইয়াদ থাকে। আর যেখানে পড়ে নাই সেটা দুর্বল হয়। ইয়াদ কম থাকে।

২। হুজুরের গদির সামনে বসা ছাত্রদের লক্ষ্য করে তিনি বলতেন— দেখো তোমাদের আর আমাদের বাহ্যিক উপবেশনস্থলের মাঝে মাত্র একবিঘত দূরত্ব। কিন্তু এ এক বিঘত দূরত্ব অতিক্রম করতে ১২/১৫ বছর লাগে।

হুজুরের একথাগুলো আমাদের ছোটো মনে আনন্দ দিতো। ভালো লাগতো। তাই একযুগ পরে এসেও কথাগুলো সেভাবেই মনে আছে।
কিতাব বিভাগে থাকাবস্থায় যখনই দেখা হতো, হাসি দিয়ে নিজে আগে সালাম দিতেন। খোঁজ খবর নিতেন।

আজিজিয়া হওয়ার পর দিলগনী মসজিদে ইফতা থাকার সুবাদে কয়েকবার যাওয়া হয়েছে। হুজুরের সাথে একবার দেখা হয়েছে। অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কোথায় খেদমতে আছি, কেমন আছি, বিয়ে শাদি করেছি কি না ইত্যাদি খোঁজ খবর নিয়েছেন। কথা শেষে খাবারের দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু তাড়াহুড়া থাকায় দাওয়াত গ্রহণ করতে পারিনি। কোনোদিন কল্পনাতেও আসেনি হুজুর এত দ্রুত চলে যাবেন। রহিমাহুল্লাহু রাহমাতান ওয়াসিয়া।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ