মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ।। ২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
৩ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ‘সংসদীয় আসনসমূহে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের খবরটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া হেফাজতের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওমরাহ পালনে রেকর্ড, পরিসংখ্যান জানালো সৌদি আরব সব ধর্ষণই সমান অপরাধ, ছোট-বড় সংজ্ঞা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসড়কে চলা অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: সংসদে মন্ত্রী মধ্যরাতের মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস সৌদি থেকে ফিরিয়ে আনা ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু, ধর্মমন্ত্রীর শোক ‘২০ জুন থেকে ‘ঢাকা–নারিতা–ঢাকা’ রুটে বিমানের টিকিট বিক্রি শুরু হবে’ 

‘সুলতান সোলাইমানের সমাধি পাশে, বিমুগ্ধ হওয়া আলোকিত ইতিহাসে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।। গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী ।।

ইস্তাম্বুলের সময়গুলো দ্রুত চলে যাচ্ছে। চোখের পলকে যেন ১৪ দিন চলে গেল। কিছুই দেখা হলো না। মাস খানেকের জন্য সময় করতে পারলে মনে হয় কিছু দেখা যেতো। ভালো করে এই প্রাচীনতম শহরটা হয়তো ঘুরা যেতো। যাইহোক, যা পেয়েছি, যা দেখেছি, এতেই আলহামদুলিল্লাহ। ভালোবাসার শহরে বারবার আসতে চাই। ইন শা আল্লাহ।

আজকের সিডিউলে প্রথমেই যাওয়া হলো, ইস্তাম্বুলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা সোলাইমানীয়া মসজিদ। কেউ কেউ এটিকে সু্লতান সোলাইমান মসজিদও বলে থাকেন। বসফরাসের তীরে গাড়ি থেকে নেমে বেশ উচুতে এই মসজিদ। হাটতে হাটতে বেশ কাহিল অবস্থা। আগেই একবন্ধু সতর্ক করেছেন, ইস্তাম্বুলে কিন্তু হাটতে হবে। কেডস জুতা পরে নিয়েন। তার কথা পাত্তা দেই নি। এখন মনে হচ্ছে, কথাটা সঠিক ছিলো। যাইহোক, স্বপ্নের শহরে চলাচলে ক্লান্তি বা কষ্ট কোন বিষয় নয়। বিসমিল্লাহ..

সুলতান সোলাইমান। বিখ্যাত নাম। মিডিয়ার কারনে বাংলাদেশেও পরিচিত এক চরিত্র। সুলতান সোলাইমানের পিতা হলেন সুলতান প্রথম সেলিম। ইতিহাস বলে, পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সুলতান সোলাইমান তার এক ছেলের নাম রেখেছিলেন মোহাম্মদ সেলিম। যাকে বলা হয় ২য় সেলিম।

ইতিহাস বিখ্যাত এই সুলতান সোলাইমান ছিলেন উসমানী সালতানাতের ১০ম সুলতান। তিনি কানুনি সোলাইমান বলেও পরিচিত ছিলেন।ইতিহাসে যেমনটি পাওয়া যায়, তিনি ছিলেন উসমানী সালতানাতের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের সুলতান। ১৫২০ সাল থেকে ১৫৬৬ সাল পর্যন্ত। প্রায় ৪০ বছর ছিলো তার শাসনামল।সুলতানের ছিলো অনন্য প্রভাব ও প্রতিপত্তি।যার কারনে ইতিহাস তাকে অভিষিক্ত করেছে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের রাজপুরুষ হিসেবে।

সুলতানিয়া মসজিদটি হলো ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক একটি নিদর্শন। ঐতিহ্যের স্থাপনা। সুলতান সোলাইমান কতৃক নির্মিত বলেই এটিকে সোলাইমানীয়া মসজিদ বলে অভিহিত করা হয়। তবে যতদূর জানা যায়, এ মসজিদ নির্মাণের কাজ তিনি শেষ করতে যেতে পারেন নি।
বসফরাসের তীর ঘেঁষা ইউরোপীয় অংশে সুলতানিয়া মসজিদটি অবস্থিত। এই মসজিদের বিশেষ একটি তাৎপর্য হলো, এটি উসমানীয়া সালতানাতের সম্মান ও মর্জাদার প্রতিক। ইতিহাস বলে, এ মসজিদের সুউচ্চ ৪টি মিনার ও বিশালাকার গম্বুজসমুহ আজও পর্যন্ত উসমানী সালতানাতের ঐতিহ্যের স্বারক হয়ে আছে।

মসজিদের পাশে রয়েছে সুলতান সুলায়মানের কবর। কবরের চারপাশ সবুজে ঘেরা। এর মাঝে বিশালকার গম্বুজের নিচে সুলতান সোলাইমানের সমাধি। তার পাশে তার সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও কবর রয়েছে। আরেক পাশে একি রকম একটি গম্বুজের নিচে সুলতান সোলাইমানের বিখ্যাত স্ত্রী হুররাম এর সমাধি।

সুলতান সোলাইমান ইতিহাস আলোচিত সেই সুলতান, যার হাতে রুমান সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিলো। উসমানী সালতানাতের সুবিখ্যাত এই মহান মানুষটিকে পৃথিবী আজও স্বরণ করে। তাই তার সমাধি দেখতে প্রতিদিন ভির করে নানা দেশের, নানা ভাষার, নানা বর্ণের অসংখ্য মানুষ। সুলতান সোলাইমান আপনাকে সালাম।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ