মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ।। ২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
৩ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ‘সংসদীয় আসনসমূহে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের খবরটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া হেফাজতের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওমরাহ পালনে রেকর্ড, পরিসংখ্যান জানালো সৌদি আরব সব ধর্ষণই সমান অপরাধ, ছোট-বড় সংজ্ঞা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসড়কে চলা অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: সংসদে মন্ত্রী মধ্যরাতের মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস সৌদি থেকে ফিরিয়ে আনা ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু, ধর্মমন্ত্রীর শোক ‘২০ জুন থেকে ‘ঢাকা–নারিতা–ঢাকা’ রুটে বিমানের টিকিট বিক্রি শুরু হবে’ 

ঋতুরাজ বসন্ত: ফাগুন যেন অনিন্দ্য প্রেমের বার্তাবাহক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

খাদিজা ইসলাম।।

সাঝঁ সকালে পাখির কিচিরমিচিরে ঘুম ভাঙ্গে। কুকিলের কুহুতান যেন মনকে করে দেয় আরো উতলা। দখিনা বাতাস জানান দেয় আমারই রাজ্য এটা। শিমুলের ফুল,আমের মুকুল, কাঁঠালের মুচি সব কিছুই যেন ফাগুনের কর্তৃত্ব। চারদিকে গাছের পাতা ঝরে নতুন পাতা গজিয়েছে। সকালের সে নির্মল বাতাস যেন গ্রামীণ পরিবেশে সারাদিন ই লেগে থাকে। সারাদিন হৈ হৈ রব পড়ে যায়, শিশুরা দলবেঁধে ছুটে ছোট সে ছেলুকলের কাছে। দেখা মেলে পাতা কুঁড়ানিদের। বাঁশ ঝাড়, আর গাছপালার পাতা সংগ্রহে পড়ন্ত দুপুরে। এ যেন ফাগুনের টালমাটাল দিনেরই জীবন্ত উদাহরণ।

কখনো চোখে পরবে জংলী ফুল সংগ্রহে বালক বালিকারা দলবেঁধে ছুটছে। কার আগে কে কত বেশি ফুল সংগ্রহ করবে। দেখা যাবে সবাই মিলে বরই ভর্তা বানানোর জন্য সংগ্রহ করবে, বরই,কাঠালের মুচি,টমেটো,ধইনচা,কাচা মরিচ। একসাথে সব তুলবে ভারাতে। তার পর ভর্তা বানিয়ে তা বাড়িতে বাড়িতে বিতরণ করবে। আড্ডা দেখা যাবে শিমুল তলায়। শিমুলের ফুল দিয়ে তৈরি করবে নকল কেরোসিন তেল। কেরোসিন তেলের কারিগররা আবার কলা গাছের খোল দিয়ে ইটের ভাটাও তৈরি করে। কতশত শুভ বুদ্ধি উদয় করে দেয় এ ফাগুন।

সারাদিন যেন ফূর্তি একটা ভাব এনে দেয় ফাগুন। বিকাল হওয়ার সাথে পাখিদের দেখা যায় নীল আকাশে। খাবারের সন্ধানে ছুটতে দেখা যায় বড়ই গাছে। নিজের জন্য বাচ্চার জন্য খাবার সংগ্রহ করছে। কখনো বা দেখা যায় ধানের খেতের পোকা ধরতে। প্রকৃতির এ ফাগুনের ছাপ দেখা যায় মানব মনে ও। চোখে পড়ে তারুণ্যের, উদ্দীপনায় তৈরি করা দোলনা। বাতাসের সাথে ধুলতে থাকে রশি দিয়ে তৈরি করা দোলনা।

পেছন থেকে সঙ্গীরা জোরে ধাক্কা দেয়!কখনো রশি ছিড়েঁ পড়তে দেখা যায় তরুণীকে। এ যেন দুখের মধ্যে ও হাসি। ফাগুনের আরেক সৌন্দর্য। প্রকৃতি আর মানবমনের চলে লুকোচুরি প্রেম। কখনো বা মাঠ থেকে কানে আসে বাঁশির সুর। বাশেরঁ বাঁশি মনের কিছুতেই যেন নিস্তার দেয় না। গোধূলির শেষ লগ্নে পাখিরা নীড়ে ফিরে ঝাঁকে ঝাঁকে। ঘাসের উপর হালকা শিশিরের ফোঁটা। শেষ বিকেলের সূর্যটা যেন আগুনের ঝলক। প্রকৃতির বায়ুতে মন যেন মনের বাঁধন ছেড়ে দূরে কোথাও হারাতে চাই। মন, প্রকৃতি দুটোই জানান দেয় এ যেন ফাগুনের রাজত্ব। সেই রাজ্যে প্রেম চলবে মানব- প্রকৃতির।

লেখক- শিক্ষার্থী, সম্মান ২য় বর্ষ,বাংলা, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ