শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ ।। ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২০ জিলহজ ১৪৪৭


আমিরাতে যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে আরব আমিরাতে। ইরানের মদদপ্রাপ্ত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা ঠেকাতে আরব আমিরাতে এবার যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে আমেরিকা। তৈরি রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রও। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হানার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে আমেরিকা।

এ বিষয়ে সম্প্রতি টেলিফোনে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন ও আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ অল-নাহিয়ানের কথা হয়েছে। তারপরই পেন্টাগন এক বিবৃতি জারি করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান পাঠিয়ে ‘একটি স্পষ্ট সংকেত দিতে চায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত অংশীদার হিসাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে দাঁড়িয়েছে’।

গত প্রায় সাত বছর ধরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব আমিরাতস কয়েকটি আরব দেশ। আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সও সৌদি সামরিক জোটকে সহায়তা দিয়ে আসছিল।

হুথি বিদ্রোহীদের আরও অভিযোগ, ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে হুথি বিরোধী সুন্নী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও সামরিক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই কারণেই আমিরাতে হামলা চালাতে তৎপর হুথি বিদ্রোহীরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হুথি বিদ্রোহীরা আমিরাতের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের ব্যাখ্যা, ইয়েমেনে একের পর এক তেলের ঘাঁটি হাতছাড়া হচ্ছে হুথি বিদ্রোহীদের। ফলে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাই মরিয়া হয়ে আরব আমিরাতকে নিশানা বানিয়েছে তারা।

১৭ জানুয়ারি আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির তেল শোধনাগার ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হাউথি বিদ্রোহীরা। তাতে তিন জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে দুজন ভারতীয়। ২৪ জানুয়ারি আবুধাবির আল-দফরা বিমানঘাঁটি থেকে ইয়েমেনে পাল্টা হামলা চালানো হয়।

এবং গত সোমবার ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। এই হামলা ব্যর্থ হয়েছিল।

ফলে এবার ইরানের মদদপ্রাপ্ত হুথি বিদ্রোহীদের প্রত্যুত্তর দিতে আরব আমিরাতের সাহায্যে সরাসরি পাশে দাঁড়াল আমেরিকা। এ জন্য ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে তৈরি আমেরিকার সেনা। রানওয়েতে প্রস্তুত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানও।

সব মিলিয়ে ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের দমন করতে প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আবুধাবি, দুবাই, শারজায়। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় যখন। পরের বছর ইয়েমেনের সরকারকে সহায়তা দেয়ার জন্য সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনে হামলা চালায়।

বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র ক্রেতাদের একটি সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৯ সালে ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা একটি প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে রয়ে গেছে।

ইয়েমেন যুদ্ধ লাখ লাখ মানুষকে দূর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে। যার ফলে জাতিসংঘ এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকট বলে অভিহিত করেছে।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ