বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ।। ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ২২ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
নানুপুর মাদরাসায় ৪০ দিনের ইতেকাফে প্রায় তিন হাজার মুসল্লি শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর টেকনাফে কওমি পড়ুয়া আব্দুল্লাহ সাঈদের ধারাবাহিক সাফল্য ‘দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো একটি ফ্যাসিবাদী প্রবণতা’ হবিগঞ্জ ইকরা শিশুদের যুদ্ধবিরোধী অভিনব প্রতিবাদ ঢাকা-১৩সহ ৫ আসনের ব্যালট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের সরকার জাতিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায়: আমিরে মজলিস ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত দুবাই বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, বাংলাদেশিসহ আহত ৪  ‘একটি প্রাণবন্ত সংসদ চাই, আলোচনায় সব সমস্যার সমাধান’

অমুসলিমদের সাথে রাসূল সা. এর আচরণ ছিলো অসাধারণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নাঈম উদ্দীন জামী ।।

রাসূল ﷺ হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মহা মানব৷ তিনি কখনো কারো প্রতি জুলুম করেন নি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সাথে সদাচারণ করেছেন। এবং তাঁর উম্মতের মধ্যে কেউ যেনো কারো প্রতি জুলুম, অবিচার না করে সে নির্দেশও দিয়েছেন।

রাসুল সা. অমুসলিমদের অধিকার রক্ষায় ঘোষণা করেন, কোনো মুসলিম যদি অমুসলিমের প্রতি অবিচার করে তবে বিচারের দিন অমুসলিমের পক্ষে অবস্থান নেবেন। হাদিস শরীফে এসেছে-

হজরত সুফিয়ান ইবনে সালিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জেনে রেখ! কোনো মুসলমান যদি অমুসলিম নাগরিকের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করে, কোনো অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করে, তার কোনো জিনিস বা সহায়-সম্পদ জোরপূর্বক কেড়ে নেয়; তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহর বিচারের কাঠগড়ায় আমি তাদের বিপক্ষে অমুসলিমদের পক্ষে অবস্থান করব।’ (আবু দাউদ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ঘোষণা করেছেন— “যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করল, সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না, অথচ তার সুগন্ধি ৪০ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (বুখারি-৩১৬৬)

রাসূল সা. কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন নি। সকলের অধিকার সমানভাবে বন্টণ করেছে। তিনি অমুসলিমদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। অমুসলিম প্রতিবেশি বা আত্মীয়ের অধিকার রক্ষা করে চলতেও রাসূল ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন।

হজরত আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন—
“আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এলেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চাইলাম- আমি কি তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ’। (বুখারি-২৬২০)

রাসূল ﷺ অমুসলিম রোগীকে দেখতে যেতেন এবং ইসলামের দাওয়াত দিতেন। এক ইহুদি দাস নবী করিম সা.-এর খেদমত করত। যখন সে অসুস্থ হলো, তখন মহানবী সা. তাকে দেখতে গেলেন, তার মাথার দিকে বসলেন আর তাকে বলেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ করো! তখন সে তার পিতার দিকে দেখল।

পিতা বলেন, তুমি আবুল কাসেমের অনুসরণ করো, ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করল। তখন নবী সা. এই বলে বের হলেন, আল্লাহর শুকরিয়া, যিনি তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিলেন।’ (বুখারি-১২৫৬)

মানুষ হিসেবে রাসূল ﷺ এর নিকট সবাই সমান ছিলো। সবার প্রতি তিনি ছিলেন উদার ও উত্তম আচরণকারী। একবার বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে দিয়ে এক ইয়াহুদির লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল আর এতে ওই লাশের সম্মানার্থে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এটি তো ইয়াহুদির লাশ! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, সে কি মানুষ নয়?’ (বুখারি-১২১৩)

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সাথে উত্তম আচরণের মাধ্যমে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উদার নীতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, চ.বি।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ