সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


‘খাদ্যে ভেজাল বন্ধ না হলে পঙ্গু হবে জাতি’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বন্ধ না হলে দেশের মানুষ ধীরে ধীরে পঙ্গু জাতিতে পরিণত হবে। সেজন্য খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয় ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনার থেকে।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা হলেও জনগণ এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছে না। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার যথাযথ উদ্যোগ ও অঙ্গীকারের অভাব এবং বিষাক্ত খাদ্যের কারণে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি অনুধাবনে উদাসীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বক্তারা বলেন, এসব আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। অন্যথায় বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে ধীরে ধীরে আমরা পঙ্গু জাতিতে পরিণত হব।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট ও দুর্যোগপূর্ণ দেশ হলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে ধান, মাছ ও সবজি উৎপাদনে এগিয়ে চলছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে বিগত চার বছরে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরে সেটা ছয় গুণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন এই খাতের ব্যবসায়ী ও কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি হতো মাত্র ৫৫ কোটি ডলারের। ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে ১০৩ কোটি ডলার আয় হয়েছে। তবে পরিতাপের বিষয় বিশ্বমানের কৃষিপণ্য উৎপাদনে ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত) সনদ ও গুড এগ্রিকালচার প্রাক্টিস (গ্যাপ) নিশ্চিত করে পণ্য তৈরি করতে না পারায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যেমন রাশিয়ায় আলু রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ফিজির একদল বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে সফর করে আলুর প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের ফাইটোস্যানিটারি শর্তাদি পূরণ করতে না পারায় আলু রপ্তানির সুযোগ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।

সেমিনারে বক্তারা আরও বলেন, উৎপাদিত কৃষিপণ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের বিষক্রিয়া পরীক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। দেশে বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি স্থাপন ও রপ্তানিতে শুল্ক-অশুল্ক বাধাকে অতিক্রম করতে পারলে তৈরি পোশাক শিল্পের পর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে কৃষিপণ্য উঠে আস