রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ ।। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২১ জিলহজ ১৪৪৭


শিয়া মিলিশিয়াদের হামলা অব্যাহত, ইয়েমেনের মা'রিবে শিক্ষা বঞ্চিত ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জুলফিকার জাহিদ।।

ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে ইয়ামেনের মা'রিব প্রদেশ হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই হামলার ফলে হাজারো ইয়ামেনি নাগরীক গৃহহীন হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বারবার সতর্ক করার পরেও হুথি মিলিশিয়ারা তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অস্থায়ী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এতে করে ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন মিলিশিয়াদের হামলার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে মারিবের বেসরকারি স্কুলগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। স্কুলগুলোতে শরণার্থীর সংখ্যা ধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন গৃহহীন মানুষজনদের শিশুদের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বাইরে ক্লাস রুম খোলার চেষ্টা করছেন, যাতে শিশুরা নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা বঞ্চিত না হয়।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপমন্ত্রী আলি আল আবাব বলেছেন, মারিবে স্কুলগুলো শরণার্থীতে ভরে গিয়েছে, শরণার্থী শিবিরগুলোর বাইরে খোলা জায়গায়  স্কুল চালু চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে সেখানে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে শরণার্থী শিশুদের বড় একটি অংশ ইচ্ছে থাকলেও স্কুলগুলোতে ভর্তি হতে পারবে না।

মারিবে স্থানীয় একটি ক্যাম্পের পরিচালক সাইফ মুসনা আঞ্চলিক একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় ক্যাম্পগুলোর ভিতর স্কুল আছে কিন্তু আশপাশের এলাকায় চলমান যুদ্ধের ফলে বাস্তুচ্যুত শিশুদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে এবং এ কারণে স্থানীয় ক্যাম্পগুলোর স্কুলগুলোতে শিশুদের ভিড় অনেক বেশি।

তিনি বলেন, মারিবেই বাস্তুচ্যুত ইয়ামেনীদের ৬১ শতাংশের বসবাস করেন। মারিবের আল জাফিনা শরণার্থী শিবিরটি ইয়ামেনের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে। এটি এখানকার সব থেকে বড় শরণার্থী ক্যাম্প, এখানে ১০ হাজার পরিবার বসবাস করেন, আর ক্যাম্পে বসবাসকারী শরণার্থীদের সংখ্যা ৭৫হাজারের উপরে।

ইয়ামেন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন যে, মারিবে শত শত মানুষ বাস্তুচ্যুত ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তাদের সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মারিব প্রশাসন।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হুথিদের ধারাবাহিক হামলা চেষ্টার কারণে বহু মানুষ জানমাল ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ইরান সমর্থিত শিয়ারা ফেব্রুয়ারীতে মারিব শহর দখলের জন্য অভিযান শুরু করে। তাদের এই অভিযানের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় জাতিসংঘ, ওয়াশিংটনসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সূত্র: আল-আরাবিয়া।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ