শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
আওয়ামী দোসরদের গ্রেফতার করলে পুরস্কার পাবে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা ফের রিয়াদে হুথি হামলা, ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদির বিগত সরকারের টিকা না দেওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জান্নাতের নেয়ামতের অপূর্ব বর্ণনা দিলেন মসজিদে নববীর খতিব জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারী সাংবাদিকের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ কওমি মাদরাসার মানোন্নয়ন ও অপপ্রচার মোকাবিলায় ঢাকায় মুহতামিম সম্মেলন সোমবার উচ্চাকাঙ্ক্ষা মুমিনের ঈমানি চেতনারই অংশ: মসজিদে হারামের খতিব রশীদ আহমদ ফেরদৌসের স্মরণে খেলাফত মজলিসের আলোচনা সভা

তার চলে যাওয়া এবং আমাদের হা-হুতাশ!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।হুমায়ুন কবীর শাবীব।।

বেঁচে থাকতে গুণীদের খুব একটা কদর হয়না এ সমাজে। মরে যাবার সাথে সাথেই আমরা আফসোস করি, কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাই। তার আকষ্মিক মৃত্যুতে শত্রু-মিত্র সবাইকে কাঁদতে দেখেছি। দেখেছি, হা-হুতাশ করতে। বন্ধু তো বন্ধুর বিয়োগে কাঁদবেই এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শত্রু..?

যাইহোক, মূল কথা হলো- তিনি চেয়েছিলেন গানের মাধ্যমে একটা গণজাগরণ সৃষ্টি করতে। স্বল্প সময়ে খানিকটা সফলও বলা যায়। এই সফলতা আরও দ্বিগুন হতে পারতো, যদি আমরা তার পাশে আর একটু দাঁড়াতে পারতাম! যে দাঁড়ানোটা এখনো শিখিনি আমরা। আমরা কি পক্ষপাত শিখেছি? শিখেছি অন্যকে খাটো করে দেখা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, অন্তর্দন্দ সৃষ্টি করা!

আমরা কত স্বপ্ন দেখি... বিপ্লবের স্বপ্নই সবচেয়ে বড়। স্বপ্ন যদি হয় বিপ্লবের, তাহলে বিপ্লবীরা কখনো এগুলো করতে পারেনা।
অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক তরুণ ভাল কিছু করার চেষ্টা করছে। ওদেরকেও প্রোমোট করি, উৎসাহ যোগাই।
কারণ উৎসাহ যোগানোই সব চেয়ে বড় সহযোগিতা। ওদের কাছে যাই, বসি, গল্প করি, সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াই। সাংস্কৃতিক কর্মীদের মূল স্রোতে প্রবাহিত করতে আমাদের এই জড়তাগুলো দূর করতে হবে সবার আগে।

কিছু শ্রোতা এক সময় তার গান একঘেয়েমি বলে বিমুখতা প্রদর্শন করতেন। আবার তার চলে যাবার পর, ঐ সব শ্রোতারাই সেই একঘেয়েমি গানগুলো শুনতে ব্যাকুল পাগলপাড়া। কত বিচিত্র এ সমাজের মানুষ তাই না? এখন প্রশংসায় ভেসে যায় তার নাম।
কতকত উপাধি তার নামের পাশে। জীবদ্দশায় এগুলো শুনলে মনে হয় খানিকটা অবাকই হতেন। কারণ তিনি তো লিখেছেন,
"গান গেয়ে গেয়ে কুঁড়াতে চাইনি জশ খ্যাতি" তাই একজন গুণী মানুষের যথাযথ মূল্যায়নে এইসব সস্তা প্রশংসা বন্ধ হওয়া দরকার।

হা-হুতাশ নয়, যে যতটুকু করছে তার ভালো দিকটার মূল্যায়ন করি। আরো ভালো করতে উৎসাহ উদ্দীপনা যোগানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ সাংস্কৃতিক কর্মীরা এতটুকুই চায়। তাকে ঘিরে আমাদের কত স্বপ্ন ছিলো। বলতে পারেন আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন.!
তার বিয়োগে অনেক ঝড় এসেছে, কাল বৈশাখী ঝড়। এসেছে টর্নেডও! মালিকের অসিম কৃপায় এখনো সেই স্বপ্নের পথ ধরেই এগিয়ে চলা। সে স্বপ্নের সারথিরা যে যেখানেই থাক সবার জন্য প্রাণ ভরে দোয়া। আর সেই স্বপ্নের প্রাণ ভোমরা আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ. আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন ওপারে। লেখক- পরিচালক, স্বপ্নসিঁড়ি সাংস্কৃতিক ফোরাম।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ