মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাওলানা যাইনুল আবিদীনের ‘লামাজহাবী: মুখ ও মুখোশ’ গ্রন্থের পাঠোন্মোচন রাতে চার দশক পর জাতিসংঘের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে মিলবে পুরস্কার সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত, শোক জানালেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী রোগীর মৃত্যু ঘিরে হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উত্তেজনা, ভাঙচুর সৌদি আরবে হামলা নিয়ে হুথি কর্মকর্তার প্রশংসা মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি দেশে ৮,২২৯টি এমপিওভুক্ত মাদরাসা রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আর ‘যথেষ্ট নয়’: কাতার ১০ মাসে হাফেজা হলেন ১৪ বছরের তানজিলা

তার চলে যাওয়া এবং আমাদের হা-হুতাশ!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।হুমায়ুন কবীর শাবীব।।

বেঁচে থাকতে গুণীদের খুব একটা কদর হয়না এ সমাজে। মরে যাবার সাথে সাথেই আমরা আফসোস করি, কেঁদে কেঁদে বুক ভাসাই। তার আকষ্মিক মৃত্যুতে শত্রু-মিত্র সবাইকে কাঁদতে দেখেছি। দেখেছি, হা-হুতাশ করতে। বন্ধু তো বন্ধুর বিয়োগে কাঁদবেই এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শত্রু..?

যাইহোক, মূল কথা হলো- তিনি চেয়েছিলেন গানের মাধ্যমে একটা গণজাগরণ সৃষ্টি করতে। স্বল্প সময়ে খানিকটা সফলও বলা যায়। এই সফলতা আরও দ্বিগুন হতে পারতো, যদি আমরা তার পাশে আর একটু দাঁড়াতে পারতাম! যে দাঁড়ানোটা এখনো শিখিনি আমরা। আমরা কি পক্ষপাত শিখেছি? শিখেছি অন্যকে খাটো করে দেখা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, অন্তর্দন্দ সৃষ্টি করা!

আমরা কত স্বপ্ন দেখি... বিপ্লবের স্বপ্নই সবচেয়ে বড়। স্বপ্ন যদি হয় বিপ্লবের, তাহলে বিপ্লবীরা কখনো এগুলো করতে পারেনা।
অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক তরুণ ভাল কিছু করার চেষ্টা করছে। ওদেরকেও প্রোমোট করি, উৎসাহ যোগাই।
কারণ উৎসাহ যোগানোই সব চেয়ে বড় সহযোগিতা। ওদের কাছে যাই, বসি, গল্প করি, সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াই। সাংস্কৃতিক কর্মীদের মূল স্রোতে প্রবাহিত করতে আমাদের এই জড়তাগুলো দূর করতে হবে সবার আগে।

কিছু শ্রোতা এক সময় তার গান একঘেয়েমি বলে বিমুখতা প্রদর্শন করতেন। আবার তার চলে যাবার পর, ঐ সব শ্রোতারাই সেই একঘেয়েমি গানগুলো শুনতে ব্যাকুল পাগলপাড়া। কত বিচিত্র এ সমাজের মানুষ তাই না? এখন প্রশংসায় ভেসে যায় তার নাম।
কতকত উপাধি তার নামের পাশে। জীবদ্দশায় এগুলো শুনলে মনে হয় খানিকটা অবাকই হতেন। কারণ তিনি তো লিখেছেন,
"গান গেয়ে গেয়ে কুঁড়াতে চাইনি জশ খ্যাতি" তাই একজন গুণী মানুষের যথাযথ মূল্যায়নে এইসব সস্তা প্রশংসা বন্ধ হওয়া দরকার।

হা-হুতাশ নয়, যে যতটুকু করছে তার ভালো দিকটার মূল্যায়ন করি। আরো ভালো করতে উৎসাহ উদ্দীপনা যোগানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ সাংস্কৃতিক কর্মীরা এতটুকুই চায়। তাকে ঘিরে আমাদের কত স্বপ্ন ছিলো। বলতে পারেন আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন.!
তার বিয়োগে অনেক ঝড় এসেছে, কাল বৈশাখী ঝড়। এসেছে টর্নেডও! মালিকের অসিম কৃপায় এখনো সেই স্বপ্নের পথ ধরেই এগিয়ে চলা। সে স্বপ্নের সারথিরা যে যেখানেই থাক সবার জন্য প্রাণ ভরে দোয়া। আর সেই স্বপ্নের প্রাণ ভোমরা আইনুদ্দীন আল আজাদ রহ. আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন ওপারে। লেখক- পরিচালক, স্বপ্নসিঁড়ি সাংস্কৃতিক ফোরাম।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ