সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ ।। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২২ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকেরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়: সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণের কারণে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না: ইরান ৩০টি নোটিশ দিয়েছি, কোনটার ওপর বলব জানি না: সংসদে আমির হামজা বিদ্যুৎ ও তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নয়, দুর্নীতি বন্ধ করুন: বিকেএম মমতার কেন এই বিপর্যয়, বিজেপির কেন এই উত্থান? এবার ২ লাখ ফলদ চারা রোপণ করবে আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চায় নেজামে ইসলাম পার্টি পলাশবাড়ীর ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জনমনের উদ্বেগ দূর করুন: হেফাজত নতুন চেয়ারম্যান পেল মাদরাসা বোর্ড

'বেক্সিমকোর চাপে সরকার টিকার বিকল্প উৎসে যেতে পারে নাই'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

করোনার ভ্যাকিসন নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, টিকা ব্যবস্থাপনায় শুরু থেকেই নয় ছয় দেখেছি। বেক্সিমকোর চাপের কারণে সরকার টিকার বিকল্প উৎসে যেতে পারে নাই। যদিও রাশিয়া ও চীন আমাদের সাথে চুক্তি করতে চেয়েছিল। টিকা বিক্রি করে সরকারি দলের এক অতি ক্ষমতাসীন ব্যক্তির লাভের জন্য রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবন হুমকির মধ্যে ফেলেছে।

এ সময় তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও বিগত ১০ বছরের স্বাস্থ্য সেবায় এডিপি বাস্তবায়ন এই বছরের সবচেয়ে কম। প্রথম ১০ মাসে বরাদ্দের মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। এরপর নতুন করে বরাদ্দ বাড়ানো কতটুক যৌক্তিক সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রোববার (৬ জুন) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, করোনাকালে দেয়া বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ, ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমার’। করোনাকালে উন্নয়নের সঙ্গা ছিল জীবন এবং জীবিকা। এই দুই খাতে ভীষণভাবে লক্ষ্যপূরণে ব্যর্থ হয়েছে ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট। সম্পূরক বাজেটে ১৯ টি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বৃদ্ধির তালিকা দেয়া হয়েছে। তাতে যে সকল মন্ত্রণালয় বাদ পড়েছে সে সকল মন্ত্রণালয় হচ্ছে- কৃষি, সমাজ কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, খাদ্য, দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসস্থান মন্ত্রণালয়।

‘চলতি অর্থবছরে কৃষিতে বরাদ্দ ছিল অপ্রতুল। এই বাজেটে আরো কমেছে। খাদ্য শস্যের আমদানি সাম্প্রতিক অতীতের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গেছে। কিছু মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বৃদ্ধি করার কথা বললেও দেখা যাচ্ছে চলতি অর্থবছরে প্রথম দশ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও বিগত ১০ বছরে স্বাস্থ্য সেবায় এডিপি বাস্তবায়ন এই বছরের সবচেয়ে কম। প্রথম ১০ মাসে বরাদ্দের মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। অথচ করোনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব ছিল স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।’

তিনি বলেন, অর্থ খরচে এতো অদক্ষতা দেখিয়েছি সেই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ানো যে কি? সেটা দেশের মানুষ ভাল জানে। বরাদ্দকৃত অর্থ খরচে স্বাস্থ্য খাতে ন্যূনতম কোন প্রতিফল দেখতে পাইনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী বাজেটে মোট বরাদ্দের ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে হওয়া উচিত। অথচ আমাদের বরাদ্দ ছিল জিডিপির মাত্র দশমিক ৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে সব চেয়ে কম বরাদ্দ। আবার যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেটাও কেন ঠিক ঠাক ব্যয় করা গেল না সেটা নিয়েও প্রশ্ন থাকে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা সেবা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিখাতে ব্যয় কমার বদলে ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে দাড়িয়েছে ৭২ শতাংশে। স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৬৬ লাখ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে চলে যায়। টিকা ব্যবস্থাপনায় শুরু থেকেই নয় ছয় দেখেছি। সব ডিম এক ঝুঁড়িতে রাখার ফল হয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট ৬ মাসে দেড় কোটি ডোজ টিকা দেবার কথা থাকলেও এবং সেই টিকার মূল্য পরিশোধ করার পরেও টিকা আসছে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ। অন্যদিকে বেক্সিমকো লাভ করে ৩৮ কোটি টাকা। নিজের ব্যবসায়ী স্বার্থ রক্ষায় সরকার বেক্সিমকোর চাপের কারণে টিকার বিকল্প উৎসে যেতে পারে নাই। যদিও রাশিয়া ও চীন আমাদের সাথে চুক্তি করতে চেয়েছিল। সরকারি দলের এক অতি ক্ষমতাসীন ব্যক্তির লাভের জন্য রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবন হুমকির মধ্যে ফেলেছে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ