শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮


মুবাহালা, ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুবাহালার ঘটনা; কী ঘটেছিল সে সময়!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সারিব সুইজা: নবম হিজরির শেষ দিকের ঘটনা। দিকে দিকে তখন ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামের দাওয়াত। আরবের সব এলাকার লোক মদীনার ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। শুধু একটিমাত্র এলাকার জনগণ ছাড়া সবাই মেনে নিয়েছে মহানবী (সা.)-এর নেতৃত্বে ইসলামী আদর্শ ও হুকুমাত। সেটি হচ্ছে নাজরান। নাজরান হলো ইয়েমেনের অন্তর্গত এক সমৃদ্ধশালী খ্রিস্টান বসতি। সমসাময়িক খ্রিস্টবিশ্বের মিশনারি সেন্টার হিসেবে বিখ্যাত ছিল এই নাজরান। এখানকার খ্রিস্টান পাদ্রিদের জ্ঞান-গরিমা সারা খ্রিস্ট জগতে ছিল সুপরিচিত। এ নিয়ে নাজরানবাসীদের ছিল অনেক গর্ব। আরব উপদ্বীপের সকল গোত্র উপগোত্র ইসলামের দাওয়াত কবুল করলেও এই নাজরানবাসীরা তা থেকে দূরে সরে থাকে।

নবী করিম (সা.) ইসলামের দাওয়াত দিয়ে নাজরানের প্রধান বিশপ আবু হারিস বিন আলকামার কাছে একটি চিঠি লিখেন। মদীনা থেকে নবী (সা.)-এর প্রতিনিধি যথারীতি ঐ চিঠি নিয়ে নাজরানের বিশপের কাছে পৌঁছে দিলেন।

চিঠি পেয়ে একটু অবাক হলেন বিশপ। তাঁকে এবং তাঁর জনগণকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে সুদূর মদীনা থেকে নবী মুহাম্মদ (সা.) চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, হয় শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করে আনুগত্য স্বীকার করতে হবে নয়তো কর প্রদান করে বশ্যতা স্বীকার করতে হবে। অন্যথায় মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।

বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন বিশপ। একবার ভাবলেন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। তাঁদের মানমর্যাদা তো কম নেই। জ্ঞান-গরিমায় গোটা খ্রিস্ট জগতে নাজরানবাসীরা অতুলনীয়। প্রয়োজন হলে সারা দুনিয়ার খ্রিস্টানরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু পরক্ষণে আবার ভাবলেন হুট করে বোকার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। মদীনার শাসনকর্তা সত্যিই যদি আল্লাহর নবী হয়ে থাকেন তাহলে তাঁর আহ্বান অমান্য করার পরিণতি অবশ্যই মারাত্মক হবে। অনেক ভেবে-চিন্তে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন জ্ঞানীগুণীদের নিয়ে একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করলেন তিনি।

অনেক আলাপ-আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হলো নাজরান থেকে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে মদীনায়। সেখানে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে নবী করিম (সা.) সত্যিই আল্লাহর নবী কিনা।

ষাটজন শিক্ষিত ও জ্ঞানী খ্রিস্টানকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হলো। এদের নেতৃত্ব দানের জন্য নির্বাচিত হলেন তিনজন বিশিষ্ট পাদ্রি। এরা হলেন নাজরানের প্রধান বিশপ আবু হারিস বিন আলকামা, মহাজ্ঞানী আবদুল মসিহ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় আইহাম।

এই তিà¦