শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে ডিএসসিসি মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে এনসিপি ইসলামি শ্রমনীতি ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ৩০ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস জমজমের বরকতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেশমাতৃকা উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে: মুফতি আবুল হাসান এমপি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের মধ্যে ব্রেইল কুরআন ও সাদাছড়ি বিতরণ দেশে ফিরেছেন সৌদি আরবে আটকে পড়া ৫০ ওমরাহযাত্রী মাওলানা নূরুল হক রহ.-এর কবর জিয়ারত করলেন খেলাফত মজলিস আমির ঢাবির গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদে’ শনাক্ত হবে এডিস মশার বিস্তার

গাইডবুক অনুকরণ: কওমিদের ধ্বংসের কান্না

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি মুখলিছ আরকামী।।

দাওরা মেশকাতসহ বোর্ড পরীক্ষার্থী ছাত্রদের পরীক্ষার প্রস্তুতি দেখে আমি খুব অভিভূত, মর্মপীড়িত ও হতাশাগ্রস্থ। শতভাগ ছাত্রদের মাঝে কিতাব বাদ দিয়ে গাইড পড়ার প্রবণতা চোখে পড়ার মত। উস্তাদগণ বছরব্যাপী কিতাবের পাঠ দান করলেও পরীক্ষা লগ্নে তার যৎসামান্য মূল্যও নেই। এ সময় মূল কিতাবের প্রয়োজনীয়তা একেবারে নেই বলা চলে। কিতাব পড়বেই বা কি করে? ভাল ফলাফলের নিশ্চয়তা তো অনেকটা গাইড ভিত্তিক।

আমাদের পরীক্ষা গ্রহণ ও পাঠদান পদ্ধতি ছাত্রদেরকে কিতাব বিমুখ ও জ্ঞান বৈরাগী হওয়ার পথ সুগম করে দেয় কি না সেটা ভাবার বিষয়। পাঠদান কালে পাঠ্য বইয়ে নেই এমন প্রাসঙ্গিক, আনুষঙ্গিক ও অনুপ্রাসঙ্গিক বহু বিষয়ের অবতারণা করা হয় যা দুর্বল মেধার সামনে অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিকই নয় শুধু অনুচিতও বটে।

হাদিসের ছাত্রদের সামনে কিতাবের পাতায় পাতায় ইখতেলাফী বিষয়গুলি যেভাবে পেশ করা হয়, সময়, পরিস্থিতি ও মেধা অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয়তা, যথার্থতা ও উপকারিতা কতখানি তা গভীরভাবে লক্ষণীয়। শত শত ইখতেলাফ সম্বলিত বিষয়গুলি ধারণ করার ক্ষমতাই বা আছে কি না তাদের? এগুলির নগদ বাকি কোন উপকার যে কারও ক্ষেত্রে সম্ভব কি না? হাদিসের অর্থ, ভাবার্থ ও জরুরি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ বাদ দিয়ে বা গুরুত্বহীনতার সাথে দেখে আট দশজন ইমামের নাম উল্লেখ করে তাদের মতামত দলিল ও দলিলেল খণ্ডণসহ ঘটা করে মুখরোচক আলোচনা করার খুব একটা ফায়দা আমার বোধগম্য নয়।

পাঠ দান ও পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরিতে ইখতেলাফী বিষয়গুলি প্রতিপাদ্য হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতীতের প্রশ্নপত্রের সহযোগিতা নিয়ে ছাত্রদের সামনে পরীক্ষাভিত্তিক ইলম বিতরণের অন্তরালে অর্থ উপার্জনের মোখ্যম সুযোগ পায়। এদের অর্থ লোভের কাছে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাওয়া খুবই তুচ্ছ।

এ পদ্ধতির পাঠ দান সময় বিশেষে বা কোন পরিসরে যথার্থ হলেও আজকের এ জ্ঞানদীনতার যুগে তা নিষ্ফল। যোগ্যতা নির্ভর পাঠ দান ও সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করা সময় ও সুষ্ঠু বিবেকের দাবি। পরিবেশটা এতটাই প্রতিকূল হয়েছে যে, কারও সদিচ্ছা খুব সহজে কার্যকর ও প্রতিফলিত হওয়া সম্ভব নয়।

এ পদ্ধতির দায়বদ্ধ হয়ে আর কত কাল থাকতে হবে আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন। তবে নৈরাশ না হয়ে কাছের সময়ে তার সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় রাখাই ভালো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহায় হোন।

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ