সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ।। ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৭ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা দেয়ার দাবি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য জরুরী ভিত্তিতে ‘আর্থিক সহায়তা তহবিল’ গঠন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের ৫ লাখ এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মুহা. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবী জানান।

দ্রুত যাত্রীবান্ধব সড়ক পরিবহন বিধিমালা প্রণয়নের দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানী বন্ধে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। এই সেক্টরের সংশ্লিষ্টদের অযোগ্যতা, অবহেলা, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণেই এমনটা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পুরান সড়ক আইন ও বিধিমালায় পরিবহন পরিচালনার বিভিন্ন কমিটিগুলোতে মালিক-শ্রমিকদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে সরকার বার বার অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ কারণে প্রণয়নরত নতুন সড়ক পরিবহন বিধিমালায় আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি, গণপরিবহন ভাড়া নির্ধারণ কমিটি, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের আর্থিক সহায়তার ট্রাস্টি বোর্ডসহ পরিবহনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সকল ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি লোকজন রাখার দাবী দীর্ঘদিনের।

তিনি বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে জেল-জরিমানা আদায় হচ্ছে, কিন্তু এই আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বলা হলেও দীর্ঘ ১৫ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়নি। এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা তহবিলের অর্থসংস্থানের জন্য নতুন সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর অধীনে বিভিন্ন মামলার যেমন হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশ ও বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের যাবতীয় জরিমানার অর্থ এই তহবিলে জমা করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের সুপারিশে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ৪৪ লাখ যানবাহন, বিআরটিএ ইস্যুকৃত ২৫ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে যানবাহন নিবন্ধন, বছর বছর ফিটনেস নবায়ন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুকালে একটি ন্যূনতম নির্দিষ্ট অংকের ফি আরোপ করে এই তহবিলে জমা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করে।

আরেক সুপারিশে সড়ক-সেতু নির্মাণ ও মেরামতকালে ঠিকাদারের অনুকূলে বিল পরিশোধকালে একটি ন্যূনতম ফি আদায় করে এই তহবিলে জমা করার দাবি জানায়। পাশাপাশি বর্তমানে বিদ্যমান সড়ক ও সেতুর টোল আদায়ের একটি ন্যূনতম অংশ এ তহবিলে জমার করার দাবিও জানায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে এই সব খাত থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় তহবিল সংগ্রহ করা হলে প্রতি বছর অনায়াসে হাজার কোটি টাকা তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক আহত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা ও নিহতের পরিবারের বৈধ উত্তরাধিকারীকে ২০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা সম্ভব বলে মনে করছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

তবে এই তহবিল পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের কর্তৃত্ব থাকলে দেশের সাধারণ যাত্রী ও পথচারী এই তহবিল থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই এই তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালনায় সৎ, যোগ্য ও দক্ষ পেশাদার লোকজন রাখার দাবী জানায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ